28 C
Kolkata
September 6, 2026
কলকাতা

পুজোর ভিড় সামলাতে আগেভাগেই কড়া কলকাতা পুলিশ, মণ্ডপের নকশা থেকে মেট্রো স্টেশন—সবেতেই নজর

সংবাদ কলকাতা: পুজোর ঢাকে কাঠি পড়তে আর বেশি দেরি নেই। কলকাতা-সহ গোটা বাংলায় ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি। কোথাও চলছে কেনাকাটা, কোথাও আবার জোরকদমে এগোচ্ছে মণ্ডপ তৈরির কাজ। উৎসবের এই আবহে সম্ভাব্য ভিড় ও দুর্ঘটনা নিয়ে আগেভাগেই সতর্ক কলকাতা পুলিশ। পুজোর মণ্ডপে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর ভিড় যাতে কোনওভাবেই বিপদের কারণ না হয়ে ওঠে, সে জন্য শুরু থেকেই কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ।

পুজোর সময়ে মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড় এবং সেই ভিড় থেকে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমাতে শহরের প্রতিটি থানার ওসিকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লালবাজারের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং সমস্ত থানার ওসিদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে পুলিশ কমিশনার এই নির্দেশ দেন। বৈঠকে পুজোর ভিড় নিয়ন্ত্রণ, মণ্ডপের নিরাপত্তা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, মণ্ডপ তৈরির একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই তার নকশা ও আয়োজনের উপর নজর রাখতে বলা হয়েছে থানাগুলিকে। এমনভাবে মণ্ডপ তৈরি করা যাবে না, যাতে একসঙ্গে অতিরিক্ত সংখ্যক দর্শনার্থী ভিতরে ঢুকে পড়েন। প্রতিটি মণ্ডপে পৃথক প্রবেশপথ এবং বেরনোর পথ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দর্শনার্থীরা নির্দিষ্ট পথ দিয়ে মণ্ডপে ঢুকবেন, প্রতিমা দর্শন করে অন্য একটি পথ দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে যাবেন। মণ্ডপের ভিতরে যাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হবে। বিশেষ করে ছবি তোলা বা নিজস্বী তোলার জন্য দর্শনার্থীরা যাতে দীর্ঘ সময় একই জায়গায় দাঁড়িয়ে না থাকেন, সে বিষয়ে সচেতন করা হবে।


প্রতিটি পুজোমণ্ডপের জন্য এলাকার ভিড়ের গতিপথ এবং মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণের পৃথক পরিকল্পনা তৈরি করবেন সংশ্লিষ্ট থানার ওসিরা। এই পরিকল্পনা তৈরির সময় পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে। পরে সংশ্লিষ্ট ডিভিশনের ডিসিরাও পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠক করবেন। মণ্ডপের স্বেচ্ছাসেবক এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

শুধু মণ্ডপের ভিতরের ভিড় নয়, মণ্ডপ সংলগ্ন রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার উপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। রাস্তার ধারে থাকা মণ্ডপে প্রতিমা দর্শনের জন্য অনেক সময় দর্শনার্থীরা গাড়ি থামিয়ে দেন অথবা গতি কমিয়ে দেন। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যানজট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এবার আগে থেকেই ট্রাফিক পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট থানা এবং ট্রাফিক গার্ডগুলিকে এখন থেকেই পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথায় যান নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন, কোথায় গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হতে পারে এবং কোন রাস্তায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা দরকার—সেসব বিষয়ও পরিকল্পনার মধ্যে রাখা হবে।

পুজোর সময়ে মেট্রো স্টেশন থেকে বেরিয়েই বহু মানুষ মণ্ডপ পরিক্রমায় বেরিয়ে পড়েন। ফলে মেট্রো স্টেশনের বাইরে আচমকা বিপুল ভিড় তৈরি হতে পারে। এই কারণে প্রতিটি মেট্রো স্টেশনের বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। পাশাপাশি ফুটপাত যাতে দখলমুক্ত এবং পথচারীদের চলাচলের উপযোগী থাকে, সেদিকেও নজর রাখতে বলা হয়েছে।


রাস্তা পারাপারের সময় যাতে পথচারীদের কোনও সমস্যায় পড়তে না হয়, তা নিশ্চিত করতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে ভিড়ের সময় গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও রাস্তা পারাপারের জায়গাগুলিতে পুলিশি নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

পুজোর রাতের উৎসবের আলো যেন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও বাধা তৈরি না করে, সেদিকেও নজর দিয়েছে লালবাজার। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কলকাতা পুরসভা এবং কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটির কাছে চিঠি পাঠানো হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। অন্ধকার বা কম আলোযুক্ত এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করে দর্শনার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই পুলিশের অন্যতম লক্ষ্য।

পুজো যত এগিয়ে আসবে, ততই শহরের রাস্তায় মানুষের ভিড় বাড়বে। তাই শেষ মুহূর্তে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেভাগেই মণ্ডপ, রাস্তা, মেট্রো স্টেশন এবং যান চলাচলের উপর নজরদারি বাড়াতে চাইছে কলকাতা পুলিশ। উৎসবের আনন্দের সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে এবার শুরু থেকেই প্রস্তুত থাকতে চাইছে লালবাজার।

Related posts

Leave a Comment