নিজস্ব সংবাদদাতা, নদিয়া— বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠল কল্যাণীর তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা অঙ্কুর মজুমদারের বিরুদ্ধে। তরুণীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে কল্যাণীতে নিজের বাড়ি থেকে অঙ্কুরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পর তাঁকে কল্যাণী মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
অভিযোগকারিণীর দাবি, ২০২৫ সালে অঙ্কুরের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। তরুণীর অভিযোগ, সেই সম্পর্কের সূত্রেই বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন অঙ্কুর। কিন্তু কিছুদিন আগে আচমকাই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। বিয়ের প্রসঙ্গ উঠতেই অঙ্কুর সম্পর্ক ছিন্ন করেন বলে অভিযোগ তরুণীর।
অভিযোগকারিণীর আরও দাবি, সেই সময় কল্যাণী শহরের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দায়িত্বে ছিলেন অঙ্কুর। রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকায় রাজনৈতিক প্রভাবের আশঙ্কায় এত দিন পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে সাহস পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তরুণী।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তরুণীর মেডিক্যাল পরীক্ষাও করানো হয়। এরপর তাঁর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতেই অঙ্কুর মজুমদারকে তাঁর কল্যাণীর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার সকালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পর অভিযুক্তকে কল্যাণী মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, মামলার তদন্ত এবং অভিযোগের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখার জন্য আদালতের নির্দেশে অঙ্কুরকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
তরুণীর অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সম্পর্কের সময়কার যোগাযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি সংক্রান্ত কোনও প্রমাণ এবং অভিযোগকারিণীর বক্তব্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হলেও ঘটনার প্রকৃত সত্য তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।
অভিযুক্ত অঙ্কুর মজুমদারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পাশাপাশি এই ঘটনায় রাজনৈতিক পরিচয়ের কোনও প্রভাব ছিল কি না, সেই বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতেই আইন অনুযায়ী তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
