সংবাদ কলকাতা: ভুয়ো ঠিকানা ব্যবহার করে পিওএস (POS) খুলে জাল নথির মাধ্যমে সিম কার্ড ইস্যু করার অভিযোগে তিন জনকে গ্রেপ্তার করল যাদবপুর থানার পুলিশ। পুলিশের দাবি, ওই পিওএস থেকে ইস্যু করা অন্তত ১০টি সিম কার্ডের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দায়ের হওয়া ১৫টি সাইবার অপরাধের অভিযোগের যোগসূত্র মিলেছে। জাতীয় সাইবার অপরাধ রিপোর্টিং পোর্টালে (National Cyber Crime Reporting Portal) জমা পড়া একাধিক অভিযোগের সূত্র ধরেই এই চক্রের সন্ধান মেলে।
তদন্তে প্রথমে ‘মা ভ্যারাইটিজ’ নামে একটি পিওএসের হদিশ পান সাইবার সেল এবং যাদবপুর থানার তদন্তকারীরা। ওই পিওএসের কোড ছিল ৬৬৩১৪৫০১৮। নথিতে প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা হিসেবে বাঘাযতীন কলোনির একটি নির্দিষ্ট ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই ঠিকানা যাচাই করতে গিয়ে তদন্তকারীরা দেখেন, সেখানে ‘মা ভ্যারাইটিজ’ নামে কোনও দোকান বা প্রতিষ্ঠানই নেই। ফলে ভুয়ো ঠিকানা ব্যবহার করে পিওএসের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশের সন্দেহ আরও জোরালো হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, ওই পিওএসের মাধ্যমে অন্তত ১০টি সিম কার্ড ইস্যু করা হয়েছিল। পরে সেগুলির মধ্যে একাধিক সিমের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দায়ের হওয়া ১৫টি সাইবার অপরাধের অভিযোগের যোগসূত্র সামনে আসে। ফলে শুধু পিওএসটির বৈধতা নয়, সিম কার্ডগুলি কার হাতে পৌঁছেছিল এবং সেগুলি কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছিল, সেই দিকটিও তদন্তের কেন্দ্রে এসেছে।
এই ঘটনায় গত ৪ সেপ্টেম্বর যাদবপুর থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১৮(৪), ৩৩৬(৩), ৩১৯(২), ৩৪০(২) এবং ৬১(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তে পিন্টু ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, রাহুল আগরওয়ালের নামে পিওএস অনুমোদনের চিঠিতে পিন্টুই সই করেছিলেন। পাশাপাশি ওই নথিতে সিল ও স্ট্যাম্প ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
গড়িয়াহাটের একডালিয়া প্লেসের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে পিন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই মামলায় রাজীব পাসোয়ান এবং ‘মা ভ্যারাইটিজ’-এর মালিক বাবুসোনা হালদারকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, বাবুসোনার কাছ থেকে সিম কার্ড সংগ্রহ করে ‘ছোটু’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করতেন রাজীব।
তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত। ভুয়ো ঠিকানায় পিওএসের অনুমোদন কীভাবে নেওয়া হয়েছিল, জাল নথি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হত, সিম কার্ডগুলি কার কাছে বিক্রি করা হত এবং সেগুলি কোন কোন সাইবার অপরাধে ব্যবহার করা হয়েছে—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের নজরে এখন ‘ছোটু’ নামে পরিচিত ওই ব্যক্তিও। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সিম সরবরাহের পুরো নেটওয়ার্ক এবং এর পিছনে থাকা ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে। তদন্ত যত এগোবে, এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও নাম সামনে আসতে পারে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।
