জলপাইগুড়ি, ৯ অক্টোবর: বাংলাদেশের প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) শৈশবের স্মৃতি ধরে রাখতে জলপাইগুড়ির নয়াবস্তির বাড়িটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বাড়িটি পরিদর্শন করেন ‘জিয়া সেন্টার ফর পলিসি অ্যান্ড রিসার্চ’-এর সম্পাদক প্রদীপচন্দ্র সাহা (Zia Centre for Policy and Research)। দেশে ফিরে পরিদর্শনের রিপোর্ট জমা দিয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংরক্ষণের বিষয়ে পদক্ষেপ করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বর্তমানে বাড়িটির মালিক চক্রবর্তী পরিবার। তাঁরা বাইরে থাকায় বাড়িটি তালাবন্ধ। ফলে প্রতিনিধি দল বাইরে থেকেই বাড়িটি ঘুরে দেখে। প্রদীপচন্দ্রের দাবি, বাংলাদেশের সরকারও এই উদ্যোগে আগ্রহী। দুই দেশের সরকারের আলোচনার ভিত্তিতে বাড়িটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
খালেদা জিয়ার বাবা মহম্মদ ইসকান্দর জলপাইগুড়ির থানা মোড়ে ‘দাশ অ্যান্ড কোম্পানি’তে কাজ করতেন। খালেদা পড়াশোনা করেছিলেন সুনীতিবালা সদর বালিকা বিদ্যালয়ে। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘বিউটি’ নামে পরিচিত ছিলেন। নয়াবস্তির প্রবীণ বাসিন্দাদের স্মৃতিতে এখনও রয়েছে তাঁর পরিবারের নানা কাহিনি।
১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর সম্পত্তি বিনিময় করে পরিবারটি জলপাইগুড়ি ছেড়ে পূর্ব পাকিস্তানে চলে যায়। পরে দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় খালেদা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হন। তাঁর প্রয়াণে জলপাইগুড়ির বহু মানুষ শোক প্রকাশ করেন। বাড়িটি সংরক্ষিত হলে তা শুধু এক প্রাক্তন রাষ্ট্রনেতার স্মৃতিচিহ্ন হিসেবেই নয়, দুই বাংলার ঐতিহাসিক যোগাযোগের নিদর্শন হিসেবেও গুরুত্ব পাবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।
