সংবাদ কলকাতা: বাগেশ্বরধামের পীঠাধীশ্বর ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই কড়া অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুর থানার সামনে বিক্ষোভ দেখিয়ে ‘বাগেশ্বর বাবা’র ছবি পোড়ানোর অভিযোগে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, ওই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত বিল নিয়ে বক্তব্য রাখার সময়ই বিষয়টি উত্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি ভবানীপুরের বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে পুলিশ কমিশনারকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘লিলুয়ায় এক সন্ত এসেছিলেন। উনি তাঁর মতো করে রাষ্ট্রবাদ-দেশপ্রেমের কথা বলেছেন। যাঁরা গ্রহণ করার করবেন, গ্রহণ করতে না চাইলে করবেন না। উনি কিছু চাপিয়ে দিতে চাননি। ভবানীপুরে থানার সামনে তাঁর ছবি পুড়িয়েছে। আমি সিপিকে বললাম, এই লোকগুলোকে অ্যারেস্ট করতে হবে।’
এর পরেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ধর্মীয় আবেগের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আর তোষণ চলবে না। এ রাজ্যে আর এ সব চলবে না।’ তাঁর বক্তব্য ঘিরে বিধানসভাতেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত রবিবার হাওড়ার লিলুয়ায় আয়োজিত ‘হনুমান কথা’র অনুষ্ঠানকে ঘিরে। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী দুর্গাপুজো ও নবরাত্রির সময়ে পুজোমণ্ডপের আশপাশে আমিষ খাবার বিক্রি এবং খাওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন। নবরাত্রির সময়ে এই ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য কলকাতার হিন্দুদের কাছে আবেদন জানান তিনি।
বাগেশ্বর বাবার ওই বক্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। পুজোর সময়ে আমিষ খাবার খাওয়া নিয়ে তাঁর মন্তব্যের বিরোধিতা করে বিভিন্ন মহল সরব হয়। ভবানীপুর থানার সামনেও প্রতিবাদ কর্মসূচি হয় বলে অভিযোগ। সেই বিক্ষোভেই তাঁর ছবি পোড়ানোর অভিযোগ সামনে এসেছে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে বঙ্গ বিজেপির নেতারাও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। বাগেশ্বর বাবার বক্তব্যকে সরাসরি সমর্থন বা বিরোধিতা না করেও দলের একাধিক নেতা প্রকাশ্যে তাঁদের আমিষ খাবার পছন্দের কথা জানিয়েছেন। ফলে মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক আরও বিস্তৃত হয়েছে।
অন্যদিকে ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছে কংগ্রেস। ফলে একদিকে তাঁর মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর, অন্যদিকে ভবানীপুরের বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ—দুই ঘটনাকে ঘিরেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ তৈরি হয়েছে।
