মোদীর কাছেই আসন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদের
দিল্লি: লোকসভার চলতি অধিবেশনের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আবহে মঙ্গলবার সকালে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র সংসদীয় দলের বৈঠক বিশেষ তাৎপর্য বহন করল। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার সঙ্গে একই সারিতে বসার সুযোগ পেলেন ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-এর লোকসভার মুখ্যসচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদার। প্রধানমন্ত্রী মোদীর ডানদিকে পঞ্চম আসনে তাঁর বসার ব্যবস্থা করা হয়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এনডিএ-র শীর্ষ নেতৃত্বের পাশে কাকলির এই আসনবিন্যাস শাসকজোটে এনসিপিআই এবং তৃণমূল ছেড়ে আসা বিদ্রোহী সাংসদদের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে দিল। বৈঠকে কাকলির পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন এনসিপিআই-এর আর এক সাংসদ শতাব্দী রায়ও।

এই ঘটনাকে ঘিরে কালীঘাট তৃণমূল কটাক্ষ করতে শুরু করেছে। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, ‘এনসিপিআই-এর সাংসদেরা তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দেখিয়ে এবং বিজেপির বিরোধিতা করে ভোটে জিতেছিলেন। পরে দল ছেড়ে বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিয়েছেন। এই ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা নিয়ে আর বিশেষ কিছু বলার নেই।’
এদিকে, নীট ইউজি প্রশ্নফাঁস বিতর্ককে কেন্দ্র করে সংসদের উভয় কক্ষে টানা অচলাবস্থা চলছে। সোমবার প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন আনার লক্ষ্যে কেন্দ্র ‘পাবলিক এগ্জ়ামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ লোকসভায় পেশ করলেও বিরোধীদের বিক্ষোভের জেরে বিলটি নিয়ে আলোচনা শুরু করা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবারের এনডিএ সংসদীয় দলের বৈঠক রাজনৈতিক দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব পায়।

সংসদ সূত্রে জানা গিয়েছে, আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত বিলেও প্রয়োজনীয় সংশোধন করে তা পুনরায় সংসদে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্র। সেই বিষয়েও শাসকজোটের কৌশল নির্ধারণে এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে সোমবার রাতে এনসিপিআই-এর লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রথমে মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফরের সম্ভাবনা থাকলেও পরবর্তী সময়ে তা বাতিল হয়। এরপরই নবান্নে বৈঠকে বসেন দু’জন।
তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার সময় থেকেই দলের সাংসদেরা জানিয়েছিলেন, সংসদে তাঁরা এনডিএ-কে সমর্থন করবেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও বৈঠক করেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ১৯ জুলাই এনসিপিআই-এর সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকের পরও তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, সংসদের ভিতরে তাঁরা এনডিএ-র সঙ্গেই থাকবেন।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার সমস্যা নিয়ে তাঁরা সরাসরি কেন্দ্রের কাছে না গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেই আলোচনা করবেন। সেই প্রেক্ষাপটে সোমবারের বৈঠক এবং মঙ্গলবার এনডিএ-র প্রথম সারিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা উস্কে দিয়েছে।
