29.6 C
Kolkata
August 1, 2026
রাজ্য

ইসকনের হাত ধরে শুরু মিড-ডে মিল, তিন মাসে আড়াই লক্ষ পড়ুয়ার কাছে পৌঁছবে পরিষেবা: মুখ্যমন্ত্রী

কলকাতা— কলকাতার সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলগুলিতে ইসকনের মাধ্যমে মিড-ডে মিল প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হল শনিবার। তারাতলায় ইসকনের কেন্দ্রীয় রান্নাঘরের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে এই পরিষেবা আড়াই লক্ষ পড়ুয়ার কাছে পৌঁছে যাবে। প্রথম পর্যায়ে কলকাতা পুরসভার অন্তর্গত প্রাক্-প্রাথমিক থেকে উচ্চ প্রাথমিক স্তরের ৫০০টি স্কুলের প্রায় ৪৪ হাজার পড়ুয়ার জন্য ইসকনের রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য নিরাপত্তার সমস্ত নিয়ম মেনে মিড-ডে মিল প্রস্তুত ও বিতরণ করা হবে। তাঁর দাবি, পড়ুয়াদের উন্নত মানের ও পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতে এই পরিষেবার পরিধি আরও বাড়িয়ে রাজ্যের আরও বেশি সংখ্যক স্কুলকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

মিড-ডে মিলে ডিম থাকবে কি না, তা নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজনৈতিক মহল ও বিভিন্ন স্তরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই বিতর্কের জবাব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, পড়ুয়াদের সপ্তাহে দু’দিন ডিম দেওয়া হবে। তবে তা ইসকনের রান্না করা খাবারের বাইরে আলাদা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। তাঁর কথায়, ‘পড়ুয়াদের পুষ্টির বিষয়ে কোনও আপস করা হবে না। সপ্তাহে দু’দিন ডিম দেওয়া হবে এবং সেই ব্যবস্থা সরকারই করবে।’

মিড-ডে মিল প্রকল্পে যুক্ত রাঁধুনিদের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনও রাঁধুনিকে কাজ হারাতে হবে না। রান্না ও খাবার বিতরণ ব্যবস্থার সঙ্গে তাঁদের যুক্ত রাখা হবে। পাশাপাশি আগস্ট মাস থেকে মিড-ডে মিল কর্মীদের মাসিক ভাতা এক হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে তাঁরা এখন থেকে মাসে তিন হাজার টাকা করে পাবেন।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইসকনের কেন্দ্রীয় রান্নাঘর ঘুরে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে রান্নার ব্যবস্থাপনা পরিদর্শনের পাশাপাশি প্রতীকীভাবে রান্নার কাজেও অংশ নেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল, স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন এবং অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা। উদ্বোধনের অংশ হিসেবে মিড-ডে মিল বহনের জন্য বৈদ্যুতিক গাড়িরও সূচনা করা হয়।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশে উন্নত মানের খাবার পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি শিশুদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং খাদ্য নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, পরীক্ষামূলক এই প্রকল্প সফল হলে ধাপে ধাপে রাজ্যের আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় একই ব্যবস্থা চালু করা।

মিড-ডে মিলে ইসকনকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সে প্রসঙ্গও এ দিন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সরকার ও ইসকনের মধ্যে হওয়া চুক্তি সম্পর্কে পূর্ণ তথ্য না জেনেই বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। তিনি ফের জানান, ডিম বাদ দেওয়া হয়নি। বরং আলাদা ব্যবস্থার মাধ্যমে সপ্তাহে দু’দিন ডিম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে পড়ুয়াদের পুষ্টিতে কোনও ঘাটতি না থাকে।

Related posts

Leave a Comment