সংবাদ কলকাতা: পুজোর আগে বাসভাড়া বৃদ্ধির দাবি উঠলেও এখনই তা কার্যকর হচ্ছে না। পুজোর পর বেসরকারি বাস ও মিনিবাসের ভাড়া পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংহ আশ্বাস দিয়েছেন বলে দাবি বাস মালিক সংগঠনের। সোমবার পরিবহণমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ভাড়াবৃদ্ধির পাশাপাশি টোল, পুলিশি হয়রানি, বাণিজ্যিক গাড়ি রিকুইজিশন, পুরনো গাড়ি এবং বাস মালিকদের দীর্ঘ দিনের আর্থিক সমস্যার মতো একাধিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
২০১৮ সালে শেষবার রাজ্যে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া বৃদ্ধি হয়েছিল। সেই সময় রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী ছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর ডিজ়েল, যন্ত্রাংশ, বিমা, রক্ষণাবেক্ষণ-সহ বাস চালানোর বিভিন্ন খরচ বেড়েছে। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে ভাড়া অপরিবর্তিত থাকায় যাত্রী পরিষেবা সচল রাখতে ভাড়া পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে বৈঠকে বাস মালিকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। তাঁদের দাবি, পরিবহণমন্ত্রী পুজোর পর এই বিষয়ে পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন।

টোলের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। ওড়িশার ধাঁচে মাসিক টোল পাস চালু করার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গে কী কী সমস্যা রয়েছে, তা তথ্য-সহ ছয় দিনের মধ্যে পরিবহণ দফতরকে জানাতে বলা হয়েছে। ধুলাগড় টোলের ক্ষেত্রে আপাতত বর্তমান ব্যবস্থাই বজায় থাকবে। পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ-সহ বিভিন্ন জেলায় টোল আদায়ে বৈষম্যের যে অভিযোগ বাস মালিকেরা তুলেছেন, তা খতিয়ে দেখে সমস্যা দূর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাস বা বাণিজ্যিক গাড়ি পুলিশ-প্রশাসনের তরফে রিকুইজিশন করা হলে মালিকদের নির্ধারিত ভাড়া ও খোরাকি দেওয়ার বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে। পরিবহণ দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মালিকেরা যাতে তাঁদের প্রাপ্য টাকা পান, সে জন্য প্রয়োজনীয় ফাইল পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং তার পরবর্তী সময়ে যে বাস ও মিনিবাস রিকুইজিশন করা হয়েছিল, সেগুলির বকেয়া টাকাও মালিকেরা যাতে দ্রুত পান, তার ব্যবস্থা করার কথা জানানো হয়েছে।
পরিবহণ সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলা লোক আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। পাশাপাশি ট্যাক্স বা সিএফ সংক্রান্ত নথি নিয়মিত না থাকা বাণিজ্যিক গাড়িগুলির কাগজপত্র ঠিক করার জন্য একটি বিশেষ প্যাকেজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নথি নিয়মিত না করলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
বাস মালিক সংগঠনগুলির অভিযোগ, ডিজ়েলের দাম থেকে শুরু করে যন্ত্রাংশ, বিমা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং বাস পরিচালনার খরচ—সবই বেড়েছে। সেই তুলনায় ভাড়া না বাড়ায় আর্থিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে। টোল প্রাঙ্গণে বর্ধিত হারে টাকা নেওয়া বন্ধ করার দাবিও জানানো হয়েছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকা টোল গেটগুলিতে বাস মালিকদের সমস্যার বিষয়টিও পরিবহণমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয়।

১৫ বছরের বেশি পুরনো বাণিজ্যিক গাড়ি বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবিও জানিয়েছে বাস মালিক সংগঠন। একই সঙ্গে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ বৈঠকে তোলা হয়েছে। পুজোর আগে শহরের রাস্তায় যাতে পর্যাপ্ত বাস পরিষেবা বজায় থাকে, সে জন্য পুলিশি সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনের দাবি। ভাড়াবৃদ্ধির বিষয়টি নিয়মিত পর্যালোচনার জন্য একটি স্থায়ী কমিটি গঠনের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। কলকাতা শহরে রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত আগের মতো নাইট পার্কিং ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
সোমবার পরিবহণমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নিজেদের দাবিসনদ লিখিত আকারে জমা দেয় জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেট। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বাসভাড়া বৃদ্ধি সংক্রান্ত আমরা একাধিক দাবি মন্ত্রীর কাছে জানিয়েছি। তিনি যে ভাবে আমাদের দাবিগুলি শুনেছেন তাতে আমরা আশ্বস্ত। পুজোর পর ভাড়াবৃদ্ধি নিয়ে তিনি পদক্ষেপ করবেন বলে আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। মন্ত্রীর উপর আমাদের সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’
ফলে পুজোর আগে যাত্রীদের উপর অতিরিক্ত ভাড়ার চাপ পড়ছে না। তবে বাস মালিকদের দাবি এবং পরিবহণ দফতরের আশ্বাস অনুযায়ী, পুজো মিটলেই বাস ও মিনিবাসের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে।
