সংবাদ কলকাতা:— দেবীপক্ষ শুরু হতেই ফের শহরে সক্রিয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। আর্থিক তছরুপ ও বিপুল মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগের তদন্তে সোমবার সকালে কলকাতার আটটি জায়গায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। টালিগঞ্জ ও শরৎ বোস রোড-সহ শহরের একাধিক ঠিকানায় তদন্তকারীরা পৌঁছে নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন।
তদন্ত সূত্রে খবর, বেআইনি সংস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা সংগ্রহ করে তা রিয়েল এস্টেট নির্মাণ সংস্থা এবং অন্যান্য ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ইডির আধিকারিকরা। প্রতারণার জাল কতদূর বিস্তৃত এবং এই আর্থিক কারবারের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতেই সোমবারের এই অভিযান বলে জানা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বর মাসেও একই আর্থিক প্রতারণার মামলার তদন্তে কলকাতার ১৭টি পৃথক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই অভিযানে পাওয়া তথ্য ও সূত্রের ভিত্তিতেই ফের নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর। পুজোর আগে শহরের একাধিক এলাকায় এই অভিযান ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের গতিপথ। কীভাবে সেই টাকা বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে সরানো হয়েছে, কোন কোন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং এই লেনদেনের পিছনে কোনও বৃহত্তর আর্থিক চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর্থিক তছরুপের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি নথি ও লেনদেনের তথ্য যাচাই করাও এই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তবে সোমবারের অভিযান সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থার নাম প্রকাশ্যে আনেনি ইডি। কারও বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, এমন তথ্যও সামনে আসেনি। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
দেবীপক্ষের শুরুতে কলকাতার আটটি জায়গায় ইডির এই তল্লাশি নতুন করে আর্থিক প্রতারণা মামলাকে ঘিরে আগ্রহ বাড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংগৃহীত বিপুল অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল, তদন্ত শেষে সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে কি না, এখন সেদিকেই নজর।
