নয়াদিল্লি— মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আন্দোলন ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। আন্দোলনকারীদের পিছনে বিদেশি অর্থের জোগান রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, বিদেশি মদতের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্দোলনকারীরা চাপে পড়েছেন। যদিও বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগের সমর্থনে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ এই বক্তব্যে প্রকাশ্যে আসেনি।
অন্যদিকে, আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, আটক ও গ্রেপ্তারের মতো পদক্ষেপের পরেও তাঁরা পিছু হটবেন না। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ফের রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনের একাধিক মুখ। ফলে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ— সব মিলিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে অনিয়ম হয়েছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ভোট চুরির অভিযোগ রাজনৈতিক বিরোধীদের দাবি; নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্যও এই বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আন্দোলনের অন্যতম মুখ অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, তাঁদের থামানো যাবে না। তাঁর কথায়, ‘আমাদের থামানো যাবে না। স্বেচ্ছাচারীদের শেষের শুরু। আমরা পুলিশের কাছে কোনও মুচলেকা দিইনি। আবার রাস্তায় নামব।’ আশুতোষ রাঙ্কাও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। সৌরভ দাসের অভিযোগ, দিল্লিতে নিরাপত্তার নামে নাগরিকদের প্রতিবাদ করার অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।
সম্প্রতি দিল্লিতে প্রস্তাবিত বিক্ষোভের আগে অভিজিৎ দিপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাঁদের এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এক বছরের জন্য শান্তি বজায় রাখার শর্তে মুক্তি দেয় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।

এই আন্দোলনকে ঘিরে বাংলাদেশের কয়েকজনের সমর্থনমূলক বক্তব্য ও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের নেতা নাহিদ ইসলাম আন্দোলনকারীদের সমর্থন করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই সমর্থন থেকেই আন্দোলনে বিদেশি অর্থায়ন হচ্ছে— এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো প্রমাণ প্রকাশ্যে নেই।
সোমবার দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘ভারতকে অশান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যার পিছনে বিদেশি শক্তি রয়েছে। একথা তো বারবার বলা হচ্ছে। বিদেশ থেকে মদত দেওয়া হচ্ছে। তবে ফান্ডিংয়ের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই ওরা আরও ভয় পেয়েছে।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগের বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট নথি বা তদন্তের ফলাফল প্রকাশ্যে আসেনি।
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি, এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ— এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই আপাতত উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। ককরোচ জনতা পার্টি ফের আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
