দিঘা: দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালের সুপার ডা. সন্দীপ বাগের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে চিকিৎসক মহলে। ৪৩ বছরের এই চিকিৎসকের শ্বাসকষ্টের পর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কোভিড জাতীয় ভাইরাসের সংক্রমণের পর শ্বাসনালীর নিচের অংশে গুরুতর সংক্রমণ এবং নিউমোনিয়া তৈরি হয়েছিল। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরিবারের দাবি মেনে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।
সূত্রের খবর, দু’দিন আগে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হয় ডা. সন্দীপ বাগের। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে জানান, তিনি তীব্র শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে থাকায় তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দিঘা থেকে কলকাতার পথে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চণ্ডীপুর এবং তমলুকে তাঁকে কিছু সময়ের জন্য স্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়। পরে তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে তাঁর ফুসফুস এবং শ্বাসনালীর নিচের অংশে গভীর সংক্রমণ শনাক্ত করেন।
ফুসফুসে গুরুতর সংক্রমণ
চিকিৎসকদের মতে, নিউমোনিয়ার কারণে ডা. সন্দীপ বাগের ফুসফুসে ব্যাপক সংক্রমণ তৈরি হয়েছিল। স্বাভাবিক অবস্থায় ফুসফুসের ভিতরের অসংখ্য বায়ুথলি বাতাসে ভরা থাকে। নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রে সেখানে সংক্রমণ ও তরল জমে যাওয়ায় ফুসফুসের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হতে পারে।

ডা. সন্দীপের ক্ষেত্রেও সংক্রমণের কারণে ফুসফুস শক্ত হয়ে গিয়েছিল বলে চিকিৎসকদের বক্তব্য। এক্স-রে পরীক্ষায় ফুসফুসের বড় অংশ সাদা হয়ে যাওয়ার ছবি ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের অনুমান, ফুসফুসের সংক্রমণ ধীরে ধীরে শরীরের অন্যান্য অংশেও গুরুতর প্রভাব ফেলেছিল।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক মত অনুযায়ী, কোভিড জাতীয় ভাইরাসের সংক্রমণের পরই শ্বাসনালীর নিচের অংশে সংক্রমণ তৈরি হয়েছিল। সেই সংক্রমণ থেকে নিউমোনিয়া এবং শরীরে তীব্র প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
হার্ট অ্যাটাকও মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ
ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ম্যাসিভ অ্যাকিউট মায়োকার্ডিয়াল ইনফ্রাকশন উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ হৃদপিণ্ডের একটি বড় অংশে রক্ত সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে গিয়ে গুরুতর হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল বলে উল্লেখ রয়েছে।
ফুসফুসের গুরুতর সংক্রমণ, শরীরে তীব্র প্রদাহ এবং হৃদযন্ত্রের উপর তার প্রভাব— সব মিলিয়েই পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছিল বলে চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা। তবে পরিবারের অনুরোধে দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
দিঘা হাসপাতালে শোক
ডা. সন্দীপ বাগের মৃত্যুতে দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। হাসপাতালের সুপার হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলেছেন। সম্প্রতি রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় তাঁর কাজের প্রশংসাও করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।

রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। জেলা হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় ডা. সন্দীপের কাজের প্রশংসা করেছিলেন তিনি। সেই চিকিৎসকের আকস্মিক মৃত্যুতে স্বাস্থ্য মহলে শোক নেমে এসেছে।
এই ঘটনায় রাজ্যে কোভিড সংক্রমণ নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করার মতো কোনও তথ্য এখনও সামনে আসেনি। তবে কোভিড জাতীয় ভাইরাসের সংক্রমণের পর গুরুতর শ্বাসযন্ত্রের জটিলতা এবং নিউমোনিয়ার মতো সমস্যা কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, ডা. সন্দীপ বাগের মৃত্যু সেই বিষয়টি ফের সামনে আনল। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকে নজর রয়েছে।
