সুরাত, মুম্বাই: মুম্বাই-আমদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। সুরাত স্টেশনে মূল কাঠামো এবং ছাদের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। এখন স্টেশনের ভিতরের সাজসজ্জা ও শেষ পর্যায়ের নির্মাণকাজ চলছে। অন্য দিকে, মুম্বাইয়ের বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্সে তৈরি হচ্ছে এই উচ্চগতির রেলপথের সূচনাকারী স্টেশন। মাটির প্রায় ৩০ মিটার নীচে তৈরি হওয়া ওই স্টেশনে খনন ও ভিত্তি নির্মাণের কাজ শেষের দিকে।
মুম্বাই থেকে আমদাবাদ পর্যন্ত প্রায় ৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই উচ্চগতির রেলপথ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল পরিকাঠামো প্রকল্প হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ প্রায় ৩২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচলের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে মুম্বাই, গুজরাত এবং সংলগ্ন অঞ্চলের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরির পাশাপাশি যাত্রী পরিবহণের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
সুরাত স্টেশনে শেষ পর্যায়ের কাজ
সুরাতে বুলেট ট্রেনের স্টেশন নির্মাণে এখন মূল কাঠামোগত কাজের পরবর্তী পর্যায়ের কাজ চলছে। স্টেশনের কাঠামো এবং ছাদ নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে ভিতরের অংশের বিভিন্ন কাজ এবং শেষ পর্যায়ের নির্মাণ চলছে।

স্টেশনের নকশায় সুরাতের বিশ্বখ্যাত হিরে কাটাই শিল্পের প্রভাব রাখা হয়েছে। শহরের অর্থনীতি ও শিল্প পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্টেশনের নকশা তৈরি করা হয়েছে। ফলে এটি শুধু একটি যাত্রী পরিষেবা কেন্দ্র নয়, সুরাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক পরিচয়কেও তুলে ধরবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সুরাত গুজরাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যকেন্দ্র। হিরে পালিশ ও কাটাই শিল্পের পাশাপাশি বস্ত্রশিল্পের জন্যও শহরটির বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। সেই শহরের বুলেট ট্রেন স্টেশনের স্থাপত্যে স্থানীয় শিল্পের ছাপ রাখার সিদ্ধান্ত প্রকল্পটির নকশাকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।
মুম্বাইয়ে মাটির নীচে স্টেশন
মুম্বাইয়ের বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্সে তৈরি হচ্ছে বুলেট ট্রেন প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। মুম্বাই থেকে এই উচ্চগতির রেলপথের যাত্রা শুরু হওয়ার কথা। শহরের ব্যস্ত বাণিজ্যকেন্দ্র বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্সের নীচে প্রায় ৩০ মিটার গভীরে স্টেশনটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

বর্তমানে সেখানে খনন এবং ভিত্তি নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মাটির নীচে স্টেশন তৈরির কারণে নির্মাণকাজে বিশেষ প্রযুক্তি এবং পরিকল্পনার প্রয়োজন হচ্ছে। মুম্বাইয়ের ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকায় উপরিভাগের স্বাভাবিক পরিষেবা ও চলাচল যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রেখে নীচে বড় পরিকাঠামো তৈরিই এই প্রকল্পের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
এই স্টেশন চালু হলে মুম্বাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকার সঙ্গে দেশের প্রথম উচ্চগতির রেল পরিষেবার সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হবে। ফলে বাণিজ্যিক যাত্রীদের পাশাপাশি অন্যান্য যাত্রীদের জন্যও দ্রুত আন্তঃনগর যোগাযোগের সুযোগ বাড়বে।
ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটার গতির লক্ষ্য
মুম্বাই-আমদাবাদ উচ্চগতির রেলপথের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৫০৮ কিলোমিটার। প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই পথে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালানো হবে। এত বেশি গতিতে ট্রেন চলাচলের জন্য সাধারণ রেলপথের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা পরিকাঠামো প্রয়োজন।

নির্দিষ্ট স্টেশনগুলিতে ট্রেন থামবে এবং দ্রুত গতির কারণে মুম্বাই ও গুজরাতের মধ্যে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই প্রকল্প শুধু একটি নতুন রেল পরিষেবা নয়, দেশের উচ্চগতির রেল প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।
সুরাত ও মুম্বাইয়ের স্টেশনের নির্মাণকাজের অগ্রগতি সেই বৃহত্তর প্রকল্পেরই অংশ। এক দিকে সুরাতে কাঠামোগত কাজ শেষ করে ভিতরের কাজ এগিয়ে চলছে, অন্য দিকে মুম্বাইয়ে মাটির নীচে বিশাল স্টেশন তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে বুলেট ট্রেন প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলিতে নির্মাণের গতি ক্রমশ বাড়ছে।
