28 C
Kolkata
August 15, 2026
রাজ্য

সাহগেল হোসেনের বোলপুরের ফ্ল্যাটে দীর্ঘ তল্লাশি

মিলল জমি-সম্পত্তির নথি ও নগদ-সোনার হদিশ

বোলপুর: অনুব্রত মণ্ডলের প্রাক্তন দেহরক্ষী সাহগেল হোসেনের বোলপুরের ফ্ল্যাটে রাজ্য পুলিশের দীর্ঘ তল্লাশি ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবীন্দ্রবীথি বাইপাস সংলগ্ন ওই ফ্ল্যাটে শুক্রবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া তল্লাশি শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত চলে। পুলিশ সূত্রের দাবি, তল্লাশিতে বিপুল পরিমাণ নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে। তার মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় জমি ও সম্পত্তি কেনাবেচা সংক্রান্ত একাধিক দলিল রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

তদন্তকারীদের দাবি, শুধু বীরভূম নয়, রাজ্যের অন্য কয়েকটি জেলাতেও সাহগেল হোসেনের নামে বা তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত ভাবে বিপুল পরিমাণ জমি ও সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। বিভিন্ন বিলাসবহুল এলাকায় জমি কেনার নথিও পুলিশের হাতে এসেছে বলে সূত্রের খবর। এর পাশাপাশি তল্লাশিতে সোনার গয়না এবং নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তবে সোনা ও নগদের সঠিক পরিমাণ এখনও প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।

তল্লাশির সময় ফ্ল্যাটে সাহগেল হোসেন নিজেই উপস্থিত ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁর উপস্থিতিতেই রাজ্য পুলিশের আধিকারিকেরা নথি ও অন্যান্য সামগ্রী খতিয়ে দেখেন। উদ্ধার হওয়া নথির কয়েকটি ক্ষেত্রে সম্পত্তি ও জমির মালিকানা নিয়ে প্রাথমিক ভাবে অসঙ্গতি নজরে এসেছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। সেই সূত্রেই সাহগেলকে আটক করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে বলে খবর।

সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখছে পুলিশ
তদন্তকারীদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এত বিপুল সম্পত্তির উৎস কী। কী ভাবে বিভিন্ন জেলায় এত জমি ও সম্পত্তি কেনা হয়েছিল, সেই অর্থ কোথা থেকে এসেছিল এবং সম্পত্তিগুলির প্রকৃত মালিকানা কার— এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, উদ্ধার হওয়া দলিল ও অন্যান্য নথি মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্পত্তি কেনার সময় যে অর্থ ব্যবহার করা হয়েছিল, তার উৎস সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে সাহগেলের সঙ্গে অন্য কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার আর্থিক যোগাযোগ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

বীরভূমের রাজনীতিতে অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ মহলের সঙ্গে সাহগেল হোসেনের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ছিল বলে পরিচিতি রয়েছে। সেই কারণে তাঁর নামে বা তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত ভাবে থাকা সম্পত্তির পরিমাণ এবং উৎস নিয়ে তদন্তকারীদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

টুলু মণ্ডল যোগও তদন্তে
এই তদন্তের সঙ্গে টুলু মণ্ডলের সঙ্গে সাহগেল হোসেনের কোনও আর্থিক বা সম্পত্তিগত যোগ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। টুলু মণ্ডলের বিপুল সম্পত্তি ও ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য নিয়ে তদন্ত শুরু হওয়ার পর তাঁর ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

তদন্তকারীদের হাতে টুলু মণ্ডলের এক ম্যানেজারের কাছ থেকে একটি ডায়েরি আসার কথাও জানা গিয়েছে। সেই ডায়েরিতে কয়েক জন সরকারি আধিকারিক এবং প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম থাকার কথা সামনে এসেছে। সেই নথির সূত্র ধরেই সাহগেল হোসেনের ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানো হয়েছে কি না, তা অবশ্য পুলিশ এখনও স্পষ্ট করেনি।

ফলে সাহগেলের সম্পত্তি সংক্রান্ত নথি এবং টুলু মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য যোগাযোগ— দুই বিষয়ই এখন তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে। দু’টি ঘটনার মধ্যে কোনও আর্থিক যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নথি যাচাইয়ের পরেই স্পষ্ট হতে পারে।

মিঠু শেখের বাড়িতেও তল্লাশি
সাহগেলের ফ্ল্যাটে তল্লাশির পাশাপাশি টুলু মণ্ডলের শ্যালক মিঠু শেখের বাড়িতেও অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। বোলপুর বাইপাস সংলগ্ন খাসপাড়ায় মিঠু শেখের বিলাসবহুল বাড়িটি ঘিরে দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১০ কাঠা জমির উপর ওই বাড়িটি তৈরি। বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় নথি এবং অন্যান্য সামগ্রী খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। তবে দীর্ঘ তল্লাশি চালানো হলেও সেখান থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু উদ্ধার হয়নি বলেই সূত্রের খবর।

একই সময়ে সাহগেলের ফ্ল্যাট থেকে জমি ও সম্পত্তির নথি, নগদ টাকা এবং সোনার গয়না উদ্ধারের দাবি তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে থাকা জমি ও সম্পত্তির মালিকানা এবং অর্থের উৎস নিয়ে এখন বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ।

তবে এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া সম্পত্তি বা নথির সঙ্গে কোনও অপরাধমূলক কার্যকলাপের সরাসরি যোগ প্রমাণিত হয়নি। তদন্তকারীরা নথি যাচাই করে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো বিষয়টি স্পষ্ট করার চেষ্টা করছেন। ফলে সাহগেল হোসেনের সম্পত্তির উৎস এবং টুলু মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে তদন্তে আগামী দিনে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

Related posts

Leave a Comment