ফ্লাইদুবাই (flydubai) বিমানের মাঝ আকাশে সহ-পাইলটের হামলায় গুরুতর আহত ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর (Smit Machchhar) শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সঙ্গে ভিডিয়ো কলে কথা বলেন। কথোপকথনে স্মিত জানান, বিপদের সময় তিনি হনুমান চালিশা পাঠ করেন। বুধবার বিমানের ককপিটে হামলার পরেও মানসিক শক্তি ধরে রাখতে তিনি হনুমান চালিশা পাঠ করছিলেন।
মোদীর সঙ্গে কথা বলার সময় স্মিতের মাথায় ব্যান্ডেজ এবং নাকে অক্সিজেনের নল ছিল। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাহস ও উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা করেন। স্মিত জানান, ১৭ বছর ধরে বিমান চালাচ্ছেন তিনি এবং গত ১১ বছর ধরে ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব পালন করছেন।
হামলার মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে স্মিত বলেন, ‘আমি জানতাম, একটা শেষ চেষ্টা করতে হবে। কোনও রকমে ককপিটের দরজাটা খুলে দিই। ফলে সবাই ভিতরে ঢুকতে পেরেছিলেন।’
তাঁর ককপিটের দরজা খোলার পর যাত্রী ও বিমানকর্মীরা ভিতরে ঢুকে হামলাকারী সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেন। পরে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক (Tabuk)-এ জরুরি অবতরণ করে।
কথোপকথনে স্মিত আরও জানান, যখনই তিনি বিপদে পড়েন, তখন হনুমান চালিশা পাঠ করেন। বুধবারের ঘটনাতেও সেই প্রার্থনা তাঁকে সাহস জুগিয়েছিল বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতীয়রা অন্যের জীবন কেড়ে নেয় না, বরং প্রয়োজনে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্যদের বাঁচায়—স্মিতের সাহসিকতা সেই কথাই প্রমাণ করেছে। দেশের মানুষকে গর্বিত করার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান মোদী।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন স্মিত। মোদীকে নিজের বড় অনুপ্রেরণা বলে উল্লেখ করেন তিনি। জানান, প্রচণ্ড যন্ত্রণা সত্ত্বেও নিজেকে উঠে দাঁড়িয়ে কিছু করার জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন তিনি। মোদী তাঁকে আশ্বস্ত করে জানান, গোটা দেশ তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছে।
এফজেড ১০৭৩ (FZ1073) বিমানটি বুধবার দুবাই থেকে তেল আভিভ যাচ্ছিল। মাঝ আকাশে সহ-পাইলট স্মিতের উপর হামলা করেন বলে অভিযোগ। বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারায় এবং জরুরি সংকেত পাঠায়। গুরুতর আহত অবস্থাতেও স্মিত ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও বিমানকর্মীদের সহায়তায় হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং বিমানটি তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করে। বিমানে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন।
তবে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র নিয়ে এখনও সম্পূর্ণ স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। কয়েকটি সূত্রে ছুরির কথা বলা হলেও, অন্য প্রতিবেদনে ককপিটে থাকা জরুরি কুঠার ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। হামলার উদ্দেশ্য নিয়েও তদন্ত চলছে।
স্মিতের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu), প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu)-সহ একাধিক নেতা।
