সংবাদ কলকাতা: কলকাতার (Kolkata) অন্যতম পরিচিত খাবারের ঠিকানা ডেকার্স লেন (Deckers Lane)। প্রতিদিন দুপুরে চাকরিজীবী থেকে সাধারণ মানুষ— বহু ক্রেতার ভিড় জমে এই এলাকায়। চপ-কাটলেট, ভাজা ভাত, মুরগির বিভিন্ন পদ, রোল, চাউমিন, স্যুপ থেকে ভাত, রুটি, খিচুড়ি ও মিষ্টি— নানা ধরনের খাবারের দোকান রয়েছে এখানে।
শনিবার কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) খাদ্যসুরক্ষা দপ্তর (Food Safety Department) ডেকার্স লেন, জোড়াবাগান (Jorabagan) এবং লেক মার্কেট (Lake Market) এলাকায় অভিযান চালায়। খাবারের গুণমান পরীক্ষা করার পাশাপাশি কয়েকটি দোকানের গুদামেও তল্লাশি চালানো হয়।
ডেকার্স লেনের একটি দোকানের গুদাম থেকে অভিযানের সময় গামলা গামলা মাখা সন্দেশ (Sandesh) উদ্ধার করেন আধিকারিকরা। ওই মিষ্টির উপর ছত্রাক (Fungus) জন্মেছিল বলে জানা গিয়েছে। খাবারের অনুপযোগী হওয়ায় উদ্ধার হওয়া সমস্ত সন্দেশ ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়।
এদিন বিভিন্ন দোকানে রান্নার উপকরণ (Cooking Ingredients) পরীক্ষা করার পাশাপাশি চপ-কাটলেটের নমুনাও (Food Samples) সংগ্রহ করা হয়। খাবারে কী ধরনের মশলা (Spices) ও রং (Food Colour) ব্যবহার করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। বিশেষ নজর ছিল হলুদগুঁড়োর (Turmeric Powder) উপর।
প্যাকেটজাত হলুদ ব্যবহার করা হচ্ছে কি না এবং প্যাকেটজাত হলে তার মেয়াদ (Expiry Date) শেষ হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়। অভিযানে জানা যায়, ডেকার্স লেনের বহু দোকানে প্যাকেটজাত হলুদ ব্যবহার করা হয় না। পাইকারি বাজার থেকে কিলো দরে হলুদগুঁড়ো কিনে রান্নায় ব্যবহার করেন দোকানদাররা। কিন্তু ওই গুঁড়োয় মেয়াদ সংক্রান্ত তথ্য না থাকায় আপত্তি জানায় খাদ্যসুরক্ষা দপ্তর।
খাবারে ব্যবহৃত রঙের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম (Food Safety Rules) রয়েছে। সেই নিয়ম মেনে রং ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়। ডেকার্স লেনের এক দোকানদার অরুণ জানান, তাঁর দোকানের বিভিন্ন খাবার ও রান্নার উপকরণ আধিকারিকেরা পরীক্ষা করেছেন। বিশেষ করে হলুদ নিয়ে তাঁরা জানতে চেয়েছেন।
এদিন জোড়াবাগান ও লেক মার্কেটের বিভিন্ন খাবারের দোকান ও হোটেলেও (Hotels and Restaurants) অভিযান চালানো হয়। রান্নায় কী ধরনের মশলা ব্যবহার করা হচ্ছে, খাবার কতটা নিরাপদ এবং রান্নার উপকরণ যথাযথভাবে সংরক্ষণ (Food Storage) করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়।
এর আগে শুক্রবার পার্ক স্ট্রিটের (Park Street) নামী রেস্তরাঁগুলিতেও খাদ্যসুরক্ষা অভিযান চালানো হয়েছিল। বড় রেস্তরাঁ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের খাবারের ছোট দোকান— সর্বত্রই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহের (Consumer Protection Week) মধ্যেই খাদ্যসামগ্রীর মান যাচাইয়ে এই অভিযান আরও জোরদার হয়েছে।
