সংবাদ কলকাতা: কোচবিহারকে উত্তরবঙ্গের অন্যতম বড় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার কোচবিহারে গিয়ে মদনমোহন মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর তিনি জানান, প্রকৃতি এবং ধর্মীয় পর্যটন—দুই ক্ষেত্রেই জোর দেওয়া হবে। পর্যটকদের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে থাকার পরিকাঠামো, সবকিছুর উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
শুভেন্দু বলেন, কোচবিহারে ধর্মীয় পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে রেল, বিমানবন্দর, বাস পরিষেবা-সহ সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। পাশাপাশি পর্যটকদের থাকার জন্য ভালো গেস্ট হাউস ও আবাসনের পরিকাঠামোও বাড়ানো প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘রিলিজিয়াস টুরিজমও হবে। তার জন্য রেল, এয়ারপোর্ট, বাস, সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বাড়ানো হবে। থাকার জন্য ভালো গেস্ট হাউস, আবাস বাড়াতে হবে। আমাদের এই কাজ করতে হবে। তা হলে কোচবিহারও তরাই-ডুয়ার্স বা টাইগার হিলের মতো ডেস্টিনেশন হয়ে যাবে।’

কোচবিহারের মদনমোহন মন্দিরকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় পর্যটনের পাশাপাশি জেলার অন্যান্য ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক জায়গাকেও পর্যটন মানচিত্রে আরও গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পর্যটন তথ্যেও মদনমোহন মন্দিরের পাশাপাশি রাসিক বিল, তুফানগঞ্জ-সহ একাধিক ধর্মীয় ও প্রাকৃতিক পর্যটনস্থানের উল্লেখ রয়েছে।
এ দিন কোচবিহারে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও উন্নয়ন নিয়ে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ৯ মে শপথ নেওয়ার পর এক বছরের মধ্যে কোচবিহারবাসীর উন্নয়নের স্বপ্ন পূরণে কাজ করার লক্ষ্য রয়েছে তাঁর।
শুভেন্দু বলেন, ‘আমি ৯ মে, ২০২৬ শপথ নিয়েছি। ৯ মে ২০২৭-এর মধ্যে কোচবিহারবাসীর যা যা স্বপ্ন, পূরণ করার করব। এক বছর সময় দিতে হবে। ডিপিআর, প্ল্যান, বরাদ্দ সবই শুরু হয়ে গিয়েছে।’

উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের প্রথম টেন্ডার ইতিমধ্যেই বেরিয়েছে বলেও জানান তিনি। সেই টেন্ডারে কোচবিহার জেলার একাধিক কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে তাঁর দাবি। একই সঙ্গে জল জীবন মিশন, প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর, অন্নপূর্ণা যোজনা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, পিএম কিষাণ সম্মান নিধি এবং কৃষকবন্ধু প্রকল্পের ভেরিফিকেশনের কাজ একসঙ্গে চালানো হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
মঙ্গলবারের সফরে মদনমোহন মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর কোচবিহারে প্রশাসনিক বৈঠকেও যোগ দেওয়ার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর এই সফরকে ঘিরে জেলার উন্নয়ন, পর্যটন এবং পরিকাঠামো নিয়ে একাধিক পরিকল্পনা সামনে এসেছে।
