সংবাদ কলকাতা:— ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের ফলাফলকে সামনে রেখে দলের নেতা-কর্মীদের কাজের হিসাব খতিয়ে দেখছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। পুরভোটের আগে এই মূল্যায়নকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কোন ওয়ার্ডে দল কতটা শক্তিশালী হয়েছে, কোথায় বিজেপি এগিয়ে গিয়েছে এবং কোথায় প্রত্যাশিত ফল আসেনি, সেই হিসাবের ভিত্তিতেই পুরভোটের প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।
বিজেপি সূত্রে খবর, এবারের বিধানসভা ভোটে ওয়ার্ডভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে দলের ফল কেমন হয়েছে, সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীরা তাঁদের দায়িত্ব কতটা পালন করেছেন এবং সংগঠনকে কতটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরভোটে প্রার্থী হওয়ার দাবিদারদের ক্ষেত্রেও এই মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
কলকাতা ও হাওড়ায় ইতিমধ্যেই পুরভোটের প্রস্তুতি শুরু করেছে বিজেপি। কলকাতার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে। হাওড়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহাকে। স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁরা একাধিক দফায় বৈঠক করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
দলের শীর্ষ নেতৃত্ব চাইছেন, জেলা ও মণ্ডল স্তরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার আগে বিধানসভা ভোটের ওয়ার্ডভিত্তিক ফলাফল তাঁদের হাতে থাকুক। এর ফলে কোন এলাকার সংগঠন কেমন কাজ করেছে এবং কোন নেতার নেতৃত্বে দল কতটা এগিয়েছে, তা তুলনামূলকভাবে বোঝা সম্ভব হবে বলে মনে করছে দল।
বিধানসভা ভোটের ফলের পর পুরভোটে বিজেপির টিকিট পাওয়ার আগ্রহও বেড়েছে বলে দলীয় সূত্রে দাবি। কলকাতা পুরভোটে প্রার্থী হওয়ার জন্য দলের অন্দরে ইতিমধ্যেই তৎপরতা শুরু হয়েছে। কয়েকজন নেতা টিকিটের জন্য দিল্লিতেও যোগাযোগ করছেন বলে খবর।
তবে প্রার্থী বাছাই নিয়ে আগেভাগেই দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক করেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, দলের সিদ্ধান্তের আগে কেউ নিজেকে প্রার্থী বা কাউন্সিলর হিসেবে ঘোষণা করতে পারবেন না। প্রার্থী বাছাইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলই নেবে বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।
বিজেপির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে শুধু ভোটের ফল নয়, দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে। দলের এক বর্ষীয়ান নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, বিধানসভা ভোটে প্রত্যেক নেতা-কর্মীর নির্দিষ্ট দায়িত্ব ছিল। সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। নিজের এলাকায় দলকে ভালো ফল দিতে ব্যর্থ কোনও নেতা পুরভোটে টিকিট চাইলে তাঁর দাবিও পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে।
পুরভোটের আগে এই পদ্ধতিতে প্রার্থী বাছাই করে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েছে বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের ফলাফলের সঙ্গে সংগঠনের মাঠের কাজকে মিলিয়ে দেখার এই উদ্যোগ আগামী পুরভোটে বিজেপির প্রার্থী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
