সংবাদ কলকাতা: নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের পর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে বড় সাফল্য। ন’দিন পর রাসুয়া জেলার ত্রিশূলী ৩ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হল দুই শ্রমিককে। শুক্রবার সকালে উদ্ধার হওয়া দু’জন হলেন সঞ্জয় শাহ এবং কবীর মহারাজন। দু’জনকেই উদ্ধারের পর অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে।
গত ২৬ আগস্ট ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে হড়পা বান নেমে আসার পর নেপালের বিভিন্ন এলাকায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই সময় বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত বহু শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে পড়েন। ত্রিশূলী ৩ প্রকল্পেও প্রায় ৪০ জন শ্রমিকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তারপর থেকেই তাঁদের উদ্ধারে লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল নেপালি সেনা ও উদ্ধারকারী দল।
রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির নেতা রাম নেউপানে সমাজমাধ্যমে দুই শ্রমিককে উদ্ধারের খবর জানান। উদ্ধার হওয়া সঞ্জয় শাহ ওই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের যন্ত্রাংশ বিভাগের প্রধান কর্মী এবং কবীর মহারাজন যন্ত্রাংশ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করছিলেন। দীর্ঘ ন’দিন সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকার পর তাঁদের জীবিত উদ্ধার হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে।
কবীর মহারাজনের স্ত্রী নেপালি সেনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর স্বামীর কাছে এই উদ্ধার কার্যত দ্বিতীয় জীবন ফিরে পাওয়ার মতো। তাঁর কথায়, ‘ও নতুন জীবন পেয়েছে। আমরা প্রচণ্ড খুশি। আমরা সকলে অপেক্ষা করছিলাম। এখন হাসপাতালে যাব ওদের দেখতে।’
তবে ত্রিশূলী ৩ প্রকল্পের সুড়ঙ্গের ভিতরে এখনও আরও শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের গভীর অংশ থেকে আরও কয়েক জনের গলার স্বর শোনা যাচ্ছে। ফলে তাঁদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করার আশা জোরালো হয়েছে। উদ্ধারকারী দল সুড়ঙ্গের ভিতরের কাদা, পাথর ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, রাসুয়ার লাংটাং খোলা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে এখনও পর্যন্ত ত্রিশূলীর মতো সাফল্য মেলেনি। সেখানে সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রায় ১৫০ মিটার এগিয়ে নেপালি সেনা দু’জন শ্রমিকের দেহ উদ্ধার করেছে। ওই প্রকল্পে মোট ৪১ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। সুড়ঙ্গের ভিতরে আরও শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে নেপালের উদ্ধারকাজ বার বার বাধার মুখে পড়ছে। হড়পা বানের জলে উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত বহু সরঞ্জাম ভেসে গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম দিয়েই কোনও রকমে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নেপালি সেনা। কাদা ও ধ্বংসস্তূপ জমে একাধিক সুড়ঙ্গের মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকারীদের কাজ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
নেপালে এই বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত বহু মানুষের মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ১২৫৯ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে এবং ৫০৫৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে ভারতীয় পর্যটকরাও রয়েছেন। ফলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারের পাশাপাশি নিখোঁজদের সন্ধানেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
ত্রিশূলী ৩ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে দুই শ্রমিকের জীবিত উদ্ধার অবশ্য উদ্ধারকারী দল ও তাঁদের পরিবারের কাছে নতুন আশার আলো দেখিয়েছে। সুড়ঙ্গের ভিতর থেকে আরও শ্রমিকের গলার স্বর শোনা যাওয়ায় দ্রুত তাঁদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে।
previous post
