সংবাদ কলকাতা:— পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলে দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং রাজ্যের রাজ্যপাল আর এন রবির হস্তক্ষেপ চাইল কালীঘাট তৃণমূল। এই বিষয়ে বিস্তারিত অভিযোগ জানাতে বৃহস্পতিবার দু’জনের কাছেই চিঠি দিয়ে জরুরি সাক্ষাতের সময় চাওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
তৃণমূলের অভিযোগ, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এবং বিভিন্ন ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একাধিক রাজনৈতিক সংঘর্ষ, হামলা এবং অশান্তির ঘটনায় পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ করেনি বলেও অভিযোগ করেছে দল। এই সমস্ত বিষয় রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালের সামনে তুলে ধরতেই সাক্ষাতের আবেদন জানানো হয়েছে বলে কালীঘাট তৃণমূল সূত্রে খবর।
দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, গত ৩০ মে সোনারপুরে নিহত দলীয় কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং সৌগত রায়ের উপরেও হামলার অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতি ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে অস্ত্র হাতে হামলার অভিযোগও সামনে এসেছে। এই ঘটনাগুলির ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালের কাছে বিষয়টি জানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তৃণমূলের আরও অভিযোগ, দলীয় কর্মসূচি, সভা, সমাবেশ এবং মিছিলের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনের অনুমতি না পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে বলে দলের তরফে দাবি করা হয়েছে। এই অভিযোগের সমর্থনে বিভিন্ন ঘটনার ছবি ও ভিডিয়োও সাংবিধানিক প্রধানদের কাছে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা নিয়েও অভিযোগ জানানো হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। তৃণমূলের দাবি, দীর্ঘদিনের মুখ্যমন্ত্রী এবং সাংসদ হিসেবে রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমানে তাঁকে ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাঁর বাড়ির বাইরে বিভিন্ন ধরনের উৎপাতের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালের কাছে দেওয়া চিঠিতে নারী নির্যাতন এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টার অভিযোগও তুলে ধরা হবে বলে তৃণমূল সূত্রে খবর। দলের বক্তব্য, রাজ্যে আইনের শাসন এবং বিরোধীদের রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার বিষয়টি নিয়ে সাংবিধানিক প্রধানদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা প্রয়োজন।
প্রস্তাবিত সাক্ষাতে কারা থাকবেন, তা চিঠিতে নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। তবে দলের বিধায়ক ও সাংসদদের একটি প্রতিনিধি দল বৈঠকে থাকতে পারে বলে সূত্রের খবর। রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যপালের দপ্তর থেকে সাক্ষাতের সময় মেলে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
previous post
