September 4, 2026
রাজ্য

ক্যামাক স্ট্রিটে ভাঙচুর নিয়ে অভিষেককে নিশানা অগ্নিমিত্রার, ‘নিজেদের লোকজনকেই সামলাতে পারেন না’

সংবাদ কলকাতা:— ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। এই ঘটনায় সরাসরি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করলেন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর দাবি, অতীতে ডিম হামলা ও ভাঙচুরের একাধিক ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ লোকজনের নাম সামনে এসেছে। তবে ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় বিজেপি জড়িত থাকলে সেটিও অন্যায় হয়েছে বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।

অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য, ক্যামাক স্ট্রিটের দপ্তরে ঠিক কারা হামলা চালিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, এর আগে যখন ভাঙচুর বা ডিম হামলার ঘটনা ঘটেছে, তখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকজনের নাম উঠে এসেছে। একইসঙ্গে তৃণমূলের একাধিক গোষ্ঠী ও নেতৃত্বকে ঘিরে দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি।

অগ্নিমিত্রার দাবি, নিজেদের দলের লোকজনকেই সামলাতে পারছেন না অভিষেক। তৃণমূলের বিভিন্ন গোষ্ঠী ও নেতৃত্বের মধ্যে যে বিভাজন রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনার প্রকৃত দায় কার, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সামনে আসা প্রয়োজন।

তবে বিজেপির অবস্থান স্পষ্ট করে শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না বিজেপি। কোনও রাজনৈতিক দলের দপ্তরে ভাঙচুরকে সমর্থন করা যায় না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। ফলে একদিকে অগ্নিমিত্রা পালের রাজনৈতিক আক্রমণ, অন্যদিকে দলীয় দপ্তরে হামলার বিরোধিতা—দুই বার্তাই সামনে এসেছে বিজেপির তরফে।

বৃহস্পতিবার ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরে একদল দুষ্কৃতী ঢুকে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। দপ্তরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে কালীঘাট তৃণমূল। ঘটনার পর দপ্তরের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এনে সরব হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

ঘটনার জন্য বিজেপিকে দায়ী করে অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। পালটা বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ দাবি করেন, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কেউ যুক্ত নয়।

ইতিমধ্যেই শেক্সপিয়র সরণি থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ছ’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, বিধানসভা নির্বাচনের আগে পর্যন্ত ধৃতদের কয়েকজনের সঙ্গে তৃণমূলের যোগ ছিল বলে তথ্য পাওয়া গিয়েছে। তবে সেই যোগসূত্রের বর্তমান অবস্থান এবং হামলার ঘটনায় তাঁদের নির্দিষ্ট ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।ক্যামাক স্ট্রিটের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা জেপির তরফে অভিযোগ অস্বীকার করে পালটা রাজনৈতিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

পুলিশের তদন্তে হামলার নেপথ্যে কারা ছিল এবং কী উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছিল, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Related posts

Leave a Comment