October 31, 2026
রাজ্য

সাড়ে চার দশকের নীতি বদল, নিজস্ব শ্রমিক সংগঠন গড়ল বিজেপি

সংবাদ কলকাতা: দলের প্রতিষ্ঠার প্রায় ৪৬ বছর পর নিজস্ব শ্রমিক সংগঠন তৈরি করল বিজেপি। আর সেই সংগঠনের প্রথম আত্মপ্রকাশ হল পশ্চিমবঙ্গে। শনিবার কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঠিকাকর্মীদের নিয়ে নতুন শ্রমিক সংগঠন চালু করল গেরুয়া শিবির। নাম দেওয়া হয়েছে ‘এনএসসিবিআই এয়ারপোর্ট কনট্রাক্টরস ওয়ার্কার্স মোর্চা’। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল। শমীকের সমাজমাধ্যমের পাতায় এই উদ্যোগকে বিজেপির শ্রমিক সংগঠন শাখা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

১৯৮০ সালে বিজেপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে দলের নিজস্ব কোনও শ্রমিক সংগঠন ছিল না। একই ভাবে ছাত্র সংগঠনও তৈরি করেনি গেরুয়া শিবির। বিজেপির বক্তব্য, রাজনৈতিক ও আদর্শগত অবস্থানের কারণেই এত দিন এই ধরনের শাখা সংগঠন গড়ার পথে হাঁটেনি তারা। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ এবং শ্রমিক সংগঠন ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘের সঙ্গে বিজেপির সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে। তবে সেগুলি বিজেপির নিজস্ব শাখা সংগঠন নয়।

কেন এত দিন নিজস্ব শ্রমিক সংগঠন তৈরি করেনি বিজেপি, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন শমীক। তাঁর বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দলের নিজস্ব শ্রমিক সংগঠন থাকলে সেই দল যখন সরকারে থাকে, তখন শ্রমিকদের পক্ষে নিজেদের অধিকার ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা কঠিন হয়ে পড়ে। সেই কারণেই বিজেপি এত দিন নিজস্ব শ্রমিক সংগঠন তৈরির পথে হাঁটেনি।



তবে এ বার সেই অবস্থান থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে শমীক বলেন, ‘দেশের জন্য কাজ করব, কাজের জন্য প্রাপ্য অর্থ নেব— এই অবস্থান নিয়েই আজ আমরা সংগঠন তৈরি করছি।’ তাঁর বক্তব্য, শ্রমিকদের অধিকার ও কাজের বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েই নতুন সংগঠন কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে সুনীল বনসল এই উদ্যোগকে বিজেপির প্রথম আনুষ্ঠানিক শ্রমিক সংগঠনের সূচনা বলে উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, বিমানবন্দরে এই সংগঠনের আত্মপ্রকাশ একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। আগামী দিনে দেশের অন্যান্য জায়গাতেও বিজেপির নিজস্ব শ্রমিক সংগঠন গড়ে তোলা হবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখযোগ্য বিষয়, নতুন সংগঠনের জন্য সর্বভারতীয় স্তরে এখনও কোনও নির্দিষ্ট নাম ঠিক করা হয়নি। অঞ্চল ও কর্মক্ষেত্রের পরিচয় অনুযায়ী সংগঠনের নামকরণ করা হচ্ছে। সেই কারণেই কলকাতা বিমানবন্দরের ঠিকাকর্মীদের সংগঠনের নামের সঙ্গে বিমানবন্দরের পরিচয় যুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে স্থানীয় স্তরে শ্রমিকদের নিয়ে সংগঠন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিল বিজেপি। দিলীপ ঘোষ রাজ্য সভাপতি থাকাকালীন ‘ভারতীয় জনতা মজদুর ট্রেড ইউনিয়ন’ নামে একটি সংগঠনও গড়ে উঠেছিল। তবে সেটি রাজ্য বা কেন্দ্রীয় বিজেপির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃত সংগঠন ছিল না বলে দলীয় সূত্রে দাবি। এ বার সুনীল বনসলের উপস্থিতিতে নতুন সংগঠনের সূচনা হওয়ায় বিজেপির শ্রমিক সংগঠন তৈরির উদ্যোগ আনুষ্ঠানিক রূপ পেল।

দীর্ঘদিনের নীতি বদলে শ্রমিক সংগঠন গড়ার সিদ্ধান্ত আগামী দিনে বিজেপির রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে, যেখানে শ্রমিক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক লড়াইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র, সেখানে এই নতুন উদ্যোগের তাৎপর্য যথেষ্ট।

Related posts

Leave a Comment