নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি— হুগলির সাংসদ হয়েও চন্দননগরের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারতেন না তিনি। স্থানীয় বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের আপত্তি ছিল বলেই তাঁকে সেখানে যেতে দেওয়া হত না। শুক্রবার চন্দননগরের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ইন্দ্রনীল। তাঁর গ্রেপ্তারি নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য না করলেও, পুরনো দলের অন্দরে তাঁর সঙ্গে সম্পর্কের তিক্ততার কথা প্রকাশ্যে আনলেন রচনা।
শুক্রবার চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের উদ্যোগে আয়োজিত বিজয়া সম্মিলনীতে উপস্থিত ছিলেন রচনা। অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি জানান, সাংসদ হওয়ার পর এই প্রথম এমন কোনও কর্মসূচিতে চন্দননগরে আমন্ত্রণ পেলেন। এর আগে একাধিকবার এখানে আসার ইচ্ছা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি বলে দাবি তাঁর।
ইন্দ্রনীলের গ্রেপ্তারি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রচনা জানান, পুলিশ নিজের কাজ করেছে। এই বিষয়ে বেশি কিছু বলতে চান না তিনি। তবে প্রাক্তন মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর খুব একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল না বলেও জানিয়েছেন সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, ইন্দ্রনীল চাইতেন না যে তাঁর আমন্ত্রণ ছাড়া রচনা চন্দননগরে আসুন।

রচনার কথায়, অন্য জায়গার বিধায়কদের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক থাকলেও চন্দননগরের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ছিল আলাদা। কয়েকবার সেখানে যেতে না পারার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে দুঃখপ্রকাশও করেছিলেন তিনি। এমনকি, চন্দননগরের মানুষের কাছে নিজের অসহায়তার কথাও জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন রচনা।
তবে ইন্দ্রনীল তাঁর সাংসদীয় কাজে সরাসরি বাধা দিতেন, এমন অভিযোগ করেননি রচনা। তাঁর বক্তব্য, ইন্দ্রনীল পছন্দ করতেন না যে সাংসদ তাঁর এলাকায় গিয়ে কোনও কর্মসূচিতে অংশ নিন বা কাজ করুন। দলের কর্মীরাও তাঁকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি। রচনার কথায়, ‘একসঙ্গে ভাল করে কাজ করতে পারিনি। এখন আমি আর সেই দলের কেউ নই। তাই তাঁদের কাউকে নিয়ে বেশি মন্তব্য করতে চাই না।’
ইন্দ্রনীল সেনের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও নিজের মতামত জানিয়েছেন রচনা। তাঁর মতে, সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে ইন্দ্রনীল যথেষ্ট পরিচিতি পেলেও রাজনীতিক হিসেবে সেই সাফল্য অর্জন করতে পারেননি।
উল্লেখ্য, দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সম্প্রতি গ্রেপ্তার হয়েছেন ইন্দ্রনীল সেন। সেই ঘটনার পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ভূমিকা নিয়ে চর্চা চলছে। তার মধ্যেই রচনার এই মন্তব্য তৃণমূলের পুরনো অন্দরের সমীকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।
