দোতলার ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত
নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে নিজের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হলেন সাগরদিঘির বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস (Bayron Biswas)। শনিবার সকাল ১১টা নাগাদ ধুলিয়ানের ডাকবাংলো এলাকার পৈতৃক বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার সময় দোতলার একটি ঘরে ছিলেন বায়রন। সেখান থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। আগুনে তাঁর হাত ও পায়ের বেশ কিছু অংশ পুড়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল।
আগুন লাগার পর বায়রনের পরিবারের সদস্যেরাই প্রথমে তাঁকে উদ্ধার করেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও দমকলকে। দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানা গিয়েছে।
বায়রনকে প্রথমে সামশেরগঞ্জের ওটু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেটি তাঁর পরিবারের পরিচালিত হাসপাতাল। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। পরে চিকিৎসকদের তরফে জানা যায়, তাঁর শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ অংশ পুড়ে গিয়েছে। যদিও বর্তমানে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। শারীরিক পরিস্থিতির প্রয়োজন হলে তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হতে পারে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় বাড়িতে বায়রন ছাড়াও পরিবারের অন্য সদস্যেরা ছিলেন। তবে এখনও পর্যন্ত পরিবারের অন্য কারও আহত হওয়ার খবর নেই। স্থানীয়দের দাবি, আগুন লাগার পর বাড়ির দোতলা থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়।
এই অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। পুলিশ ও দমকল তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক ভাবে বৈদ্যুতিক গোলযোগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়ির সঙ্গে যুক্ত বিড়ি ব্যবসার কোনও ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত আগুন লাগার নির্দিষ্ট কারণ ঘোষণা করা হয়নি।
বায়রনের পৈতৃক বাড়ির পাশেই তাঁদের বিভিন্ন ব্যবসা রয়েছে। ফলে আগুন কী ভাবে ছড়াল এবং আগুনের উৎস কোথায় ছিল, তা খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থল পরীক্ষা করছেন দমকল আধিকারিকেরা। পুলিশের তরফেও বাড়ির বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুনের কারণ নিয়ে কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করতে চাইছে না প্রশাসন।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করেন। অগ্নিকাণ্ডের পর আহত বায়রনকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হওয়ায় তাঁর চিকিৎসা সঙ্গে সঙ্গেই শুরু করা হয়। বর্তমানে তাঁকে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
বায়রন বিশ্বাস সাগরদিঘির বিধায়ক। ২০২৩ সালের উপনির্বাচনে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে জিতে প্রথম বার বিধানসভায় আসেন তিনি। পরে তৃণমূলে যোগ দেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রতীকে সাগরদিঘি থেকে ফের জয়ী হন। পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত হন।
এই ঘটনার পর তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন রাজনৈতিক মহলের একাধিক নেতা। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ এবং অগ্নিকাণ্ডে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট হবে না।
