যৌন নির্যাতনের অভিযোগে জোর তদন্ত
বারুইপুর, ৭ জুলাই— দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে বলে তদন্তকারী সূত্রের খবর। সূত্রের দাবি, নাবালিকার মাথা, গলা, ঘাড় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি যৌনাঙ্গেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত যৌন নির্যাতন বা মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, প্রাথমিক ময়নাতদন্তের পর্যবেক্ষণে নাবালিকার মাথায় ভারী কোনও বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল বলে ইঙ্গিত মিলেছে। মাথায় গভীর ক্ষতের পাশাপাশি গলা ও ঘাড়ে একাধিক আঘাতের চিহ্নও নথিভুক্ত হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন থাকায় ঘটনার নেপথ্যে নৃশংস হামলার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া সূত্রের খবর, প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যৌনাঙ্গে আঘাতের উল্লেখ রয়েছে। তদন্তকারীরা এই তথ্যকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। তবে যৌন নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে ফরেন্সিক পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
তদন্তকারী সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, নাবালিকার ফুসফুসে জল পাওয়া গিয়েছে। এই তথ্যের তাৎপর্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় জলে ডুবে গেলে ফুসফুসে জল প্রবেশ করতে পারে। তবে এই পর্যবেক্ষণ একাই মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের জন্য যথেষ্ট নয়। মৃত্যুর সময়, কারণ এবং ঘটনাক্রম নির্ধারণে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট, ফরেন্সিক বিশ্লেষণ এবং অন্যান্য প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের হাতে একটি নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজও এসেছে, যেখানে নাবালিকার সঙ্গে এক ব্যক্তিকে হাঁটতে দেখা গিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। সেই ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ, ফরেন্সিক রিপোর্ট, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত ফল এবং ডিজিটাল প্রমাণ মিলিয়ে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
