33 C
Kolkata
August 21, 2026
দেশ

২০ দিনে কেজিতে ২০ টাকা দাম বেড়েছে চিনির, স্বস্তি দিতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের

সংবাদ কলকাতা— রান্নাঘর থেকে মিষ্টির দোকান, সর্বত্রই চিনির বাড়তি দামের চাপ। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কেজিতে প্রায় ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে বলে বাজারে অভিযোগ। এক সময় যে চিনি প্রায় ৪৫ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছিল, সেটিই এখন অনেক জায়গায় ৬৫ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। আচমকা এই মূল্যবৃদ্ধিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের পাশাপাশি মিষ্টি ব্যবসাতেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে এ বার বড় পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে দাম কমানোর লক্ষ্যে ১০ লক্ষ টন চিনি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রায় এক দশকের মধ্যে এই প্রথম এত বড় পরিমাণে চিনি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।

কেন্দ্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত আমদানি করা চিনি দেশে আনার সুযোগ থাকবে। সামনে উৎসবের মরশুম। দুর্গাপুজো-সহ বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে এই সময়ে মিষ্টি এবং অন্যান্য খাদ্যপণ্যে চিনির ব্যবহার অনেকটাই বেড়ে যায়। ফলে উৎসবের আগে বাজারে পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করতেই আমদানির সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।

শুধু আমদানিই নয়, চিনির মজুত নিয়েও কড়া পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র। মাসে ১০ টনের বেশি চিনি ব্যবহার করে এমন বড় ক্রেতা বা পাইকারি ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ১৫ দিনের বেশি চিনি মজুত রাখতে পারবেন না। এই নিয়ম ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। অতিরিক্ত মজুত করে বাজারে কৃত্রিম ঘাটতি তৈরির সম্ভাবনা ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ।

তবে দেশের বাজারে সত্যিই চিনির ঘাটতি তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে। চিনি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মহলের দাবি, দেশে এখনও পর্যাপ্ত চিনি মজুত রয়েছে। বর্তমান মজুত দিয়ে নভেম্বর-ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো সম্ভব। এর মধ্যেই নতুন উৎপাদন শুরু হলে সরবরাহের চাপ আরও কমবে।

নতুন উৎপাদন মরশুমও কিছুটা এগিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। চিনি শিল্পের সংগঠন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের তুলনায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন আগে নতুন মরশুমের উৎপাদন শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকেই বেশ কিছু চিনিকলে নতুন করে উৎপাদন শুরু হতে পারে।

শিল্প মহলের হিসাব অনুযায়ী, নতুন মরশুম শুরু হওয়ার আগেও দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চিনি মজুত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অক্টোবর মাসে উৎসবের কারণে চাহিদা বাড়লেও দেশীয় মজুত এবং আমদানি করা চিনি মিলিয়ে বাজারে সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা করা হবে।

চিনির দাম বৃদ্ধির পিছনে উৎপাদন পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ কারণ। কর্নাটক এবং মহারাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদক রাজ্যে উৎপাদন কম হওয়ায় বাজারে সরবরাহ নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি রপ্তানি নীতি এবং আগামী মরশুমের জন্য মজুত রাখার সিদ্ধান্তও বাজারের দামে প্রভাব ফেলছে।

এখন বড় প্রশ্ন, কেন্দ্রের এই পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের বাজারে চিনির দাম কত দ্রুত কমবে। আমদানি করা চিনি বাজারে পৌঁছতে শুরু করলে এবং নতুন মরশুমের উৎপাদন চালু হলে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পাইকারি বাজারে দামের উপর চাপ কমতে পারে। তার প্রভাব পরে খুচরো বাজারেও পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অর্থাৎ, এখনই কেজিতে ২০ টাকা কমে যাবে এমন নিশ্চয়তা না থাকলেও কেন্দ্রের আমদানি সিদ্ধান্ত, মজুতের উপর নিয়ন্ত্রণ এবং আগেভাগে নতুন উৎপাদন শুরু—এই তিন পদক্ষেপে আগামী কয়েক সপ্তাহে চিনির বাজারে স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Related posts

Leave a Comment