রাজ্য সরকারপোষিত স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) এখনও কেন দেওয়া হয়নি, তা জানতে চাইল কলকাতা হাইকোর্ট। বকেয়া ডিএ মেটানোর বিষয়ে রাজ্যকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
অল বেঙ্গল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (এবিটিএ)-সহ শিক্ষক সংগঠনগুলির করা মামলার শুনানিতে শুক্রবার এই নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত জানতে চেয়েছে, সরকারপোষিত বা ‘গ্রান্টস-ইন-এইড’ স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা কবে থেকে বকেয়া ডিএ পাবেন এবং তা মেটানোর জন্য রাজ্যের পরিকল্পনা কী।
মামলার পরবর্তী শুনানির আগে আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজ্যকে হলফনামা জমা দিতে বলা হয়েছে। সেখানে বকেয়া ডিএ প্রদানের নির্দিষ্ট সময়সূচি ও সরকারের পরিকল্পনা জানাতে হবে।

মামলাকারীদের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম ও সুদীপ্ত দাসগুপ্ত আদালতে দাবি করেন, রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে। রোপা রুল ২০০৯ অনুযায়ী সরকারপোষিত স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরাও ডিএ পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু এখনও তাঁদের বকেয়া ডিএ মেটানো হয়নি।
র আগে সুপ্রিম কোর্টে ডিএ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে রাজ্য জানিয়েছিল, সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র ৬৫ শতাংশ ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে এবং বাকি অংশ মেটানোর প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু সরকারপোষিত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের একাংশ এখনও বকেয়া ডিএ না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

শুধু শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরাই নন, পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং অন্যান্য সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও পেনশনভোগীদেরও বকেয়া ডিএ নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র ব্যবধান মেটানোর দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে আসছে।
এবার হাইকোর্টের নির্দেশের ফলে সরকারপোষিত স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে রাজ্যকে নির্দিষ্ট অবস্থান জানাতে হবে। আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের হলফনামায় রাজ্য কী জানায়, সেদিকেই নজর থাকবে।
