সংবাদ কলকাতা:— অন্নপূর্ণা যোজনায় মাসে তিন হাজার টাকা না পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষোভ ও বিক্ষোভ অব্যাহত। কোথাও পথ অবরোধ, কোথাও রেল অবরোধ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রকল্পের সুবিধা না পাওয়া মহিলারা। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বিক্ষোভকারীদের ধৈর্য ধরার আবেদন জানিয়েছেন। অন্য দিকে, পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
শনিবার অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিক্ষোভ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, আগের সরকারের আমলে মহিলাদের বিপুল সংখ্যায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা দেওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সব ধরনের সরকারি সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও শর্ত রয়েছে। সেই শর্ত পূরণ করলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সুবিধা পাবেন।
দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘যে ভাবে মহিলাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেওয়া হয়েছে, তাতে অভ্যাস খারাপ হয়ে গিয়েছে। সব সুবিধা সবার জন্য নয়। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার বিভিন্ন প্রকল্প চালায়। প্রতিটি প্রকল্পের নির্দিষ্ট সীমা ও যোগ্যতার মাপকাঠি রয়েছে। যাঁরা সেই মাপকাঠির মধ্যে পড়বেন, তাঁরাই সুবিধা পাবেন।’

অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়াকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছে। সরকারের তরফে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের যাচাইয়ের কাজ নিয়ম মেনেই চলছে। পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
পশ্চিম মেদিনীপুরে শুক্রবার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়ার অভিযোগে বহু মহিলা জেলাশাসকের দপ্তরে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। সেই সময় প্রশাসনিক বৈঠকে ছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল। বিক্ষোভকারীরা জেলাশাসকের ভবনের নীচে জড়ো হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে বৈঠক ছেড়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে নীচে নেমে আসেন মন্ত্রী।
বিক্ষোভকারী মহিলাদের অভিযোগ, তাঁরা এখনও পর্যন্ত অন্নপূর্ণা যোজনার কোনও মাসের টাকা পাননি। প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে তাঁদের এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘুরতে হচ্ছে। মহিলাদের অভিযোগ, মহকুমাশাসকের দপ্তরে গেলে পুরসভায় যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে। আবার পুরসভায় গেলে তাঁদের মহকুমাশাসকের দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে।
মহিলাদের অভিযোগ শুনে অগ্নিমিত্রা পাল বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য জেলাশাসককে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক নিয়োগের নির্দেশ দেন। যাতে বঞ্চিত মহিলাদের বার বার বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে না হয়, সেই বিষয়টিও দেখার কথা বলা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘একটু সময় দিন। সবে তো সরকার ১০০ দিন পূর্ণ করেছে।’ প্রকল্পের টাকা না পাওয়ার কারণ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
এর আগে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়ার অভিযোগে পথ ও রেল অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে। ফলে প্রকল্পটি চালু হওয়ার পরেই সুবিধাভোগী বাছাই, যাচাই প্রক্রিয়া এবং টাকা পাঠানোর পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

সরকারের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ, প্রকৃত যোগ্য মহিলাদের দ্রুত প্রকল্পের আওতায় আনা এবং যাঁরা আবেদন করেও টাকা পাননি, তাঁদের অভিযোগের নিষ্পত্তি করা। এক দিকে বিক্ষোভ সামলাতে প্রশাসনের তৎপরতা, অন্য দিকে মন্ত্রীদের মন্তব্য—এই দুই বিষয়কে ঘিরেই অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ছে।
