সংবাদ কলকাতা:— ভারতীয় দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর প্রাক্তন ক্রিকেটার অজিত আগরকরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। বিসিসিআইয়ের সিনিয়র পুরুষ দলের নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে আগরকরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাঁকে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন গম্ভীর। তাঁর মতে, আগরকরের সময়ে ভারতের একের পর এক সাফল্যই ভবিষ্যতে তাঁর অবদানকে মনে রাখার জন্য যথেষ্ট।
সমাজমাধ্যমে আগরকরকে উদ্দেশ্য করে গম্ভীর লেখেন, ‘প্রিয় অজিত ভাই, আপনার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়া আমার কাছে অত্যন্ত সম্মানের। তিনটি আইসিসি ট্রফি আপনার দৃঢ় বিশ্বাসের প্রমাণ—দল সবার আগে, সবসময় দলই সবার আগে। আমাকে বলতেই হবে, ইতিহাস আপনার প্রতি আরও সদয় হবে। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ।’
২০২৩ সালের জুলাইয়ে ভারতীয় দলের সিনিয়র পুরুষ নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন আগরকর। তাঁর নেতৃত্বে ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সফল সময়ের সাক্ষী হয়েছে দেশ। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল ভারত। এরপর ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে দীর্ঘ আইসিসি ট্রফির খরা কাটায় ভারত।
এরপর ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। সেখানেই থেমে থাকেনি সাফল্য। ২০২৬ সালে আরও একটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে নেয় ভারতীয় দল। ফলে আগরকরের নির্বাচক-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বের সময় একাধিক বড় আইসিসি ট্রফি এসেছে ভারতের ঘরে।

মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে আগরকরের মেয়াদ শেষ হয়। তাঁর জায়গায় নতুন সদস্য নিয়োগের জন্য আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বিসিসিআই। আগরকরের শেষ দায়িত্ব ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে চলতি সিরিজের জন্য ভারতের সাদা বলের দল নির্বাচন।
আগরকর সরে যাওয়ার পর আপাতত নির্বাচক কমিটির ভার সামলাচ্ছেন প্রজ্ঞান ওঝা। তাঁর সঙ্গে নির্বাচক কমিটিতে রয়েছেন শিবসুন্দর দাস, অজয় রাত্রা এবং আরপি সিং। ইতিমধ্যেই ওঝার নেতৃত্বে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের আসন্ন পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ এবং ভারত ‘এ’ দলের তিনটি ম্যাচের জন্য দল বেছে নেওয়া হয়েছে।
বিসিসিআইয়ের নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচক কমিটির মধ্যে সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলা সদস্যই চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। ভারতের হয়ে ২৪টি টেস্ট খেলা ওঝা সেই নিয়মেই আপাতত অন্তর্বর্তী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন।
এদিকে আগরকরের স্থায়ী উত্তরসূরি খোঁজার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে বিসিসিআই। নতুন পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রতিনিধিকে দীর্ঘমেয়াদি দল গঠন, প্রতিভা খোঁজা, ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ এবং নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাতে হবে।
নির্বাচক পদে আবেদন করতে হলে অন্তত সাতটি টেস্ট, অথবা ৩০টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ, অথবা ১০টি একদিনের আন্তর্জাতিক এবং ২০টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার যোগ্যতা থাকতে হবে। পাশাপাশি ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর অন্তত পাঁচ বছর পার হতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৪ অক্টোবর।

আগরকরের ভবিষ্যৎ নিয়ে অবশ্য বেশ কিছুদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। বিশেষ করে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় রোহিত শর্মার জায়গা নিয়ে আলোচনার সময় তাঁর ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। যদিও বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া সেই জল্পনা জোরালোভাবে খারিজ করেছিলেন।
গত মাসে মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা বৈঠকে আগরকরের অনুপস্থিতি তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার সবচেয়ে বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তাঁর বিদায়ের পর নতুন নির্বাচক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করল বিসিসিআই। আর সেই সময়ই গম্ভীরের এই বার্তা আগরকরের ভারতীয় ক্রিকেটে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সামনে এল।
