নয়াদিল্লি— ছোটবেলা থেকে পাওয়া শিক্ষা ও মূল্যবোধই তাঁকে উচ্চাকাঙ্ক্ষার বদলে লক্ষ্যকে সামনে রেখে এগোতে শিখিয়েছে। বুধবার ‘বিকশিত ভারত সংকল্প সভা’-য় এমনই দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, জীবনে কী হবেন বা কোথায় পৌঁছবেন, তা নিয়ে কখনও ভাবেননি। বরং যে দায়িত্ব পেয়েছেন, তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করাই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কখনও ভাবিনি যে আমাকে নির্বাচনে লড়তে হবে। ছোটবেলা থেকে যে শিক্ষা ও মূল্যবোধ পেয়েছি, তা আমাকে শিখিয়েছে—আমি এমন একজন মানুষ, যিনি উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য নয়, একটি লক্ষ্য বা সংকল্পের জন্য বাঁচেন।’
প্রশাসনের শীর্ষে তাঁর টানা ২৫ বছরের যাত্রাকে অনেকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখলেও মোদি নিজে বিষয়টিকে ব্যক্তিগত গৌরবের জায়গা থেকে দেখেন না বলে জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, ২৫ বছর আগে ৫০ বছর বয়সে তিনি জঙ্গল ও পাহাড়ে আদিবাসী মানুষের মধ্যে কাজ করছিলেন। সেই সময় তিনি বিজেপির সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং রাজনৈতিক পরিচয় বলতে ছিল দলের একজন কর্মী।
মোদি বলেন, ‘২৫ বছর আগে, ৫০ বছর বয়সে আমি আদিবাসী মানুষের মধ্যে জঙ্গলে, পাহাড়ে জীবন কাটাচ্ছিলাম। বিজেপির সংগঠনের পথে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমার রাজনৈতিক রিপোর্ট কার্ড ছিল একজন সংগঠনের কর্মীর।’
তাঁর দাবি, রাজনীতিতে নিজের পরিচিতি তৈরি করার ইচ্ছা থাকলে অনেক আগেই নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রবেশ করতে পারতেন। কিন্তু সেটি তাঁর স্বভাব ছিল না। কী হবেন বা ভবিষ্যতে কী ঘটবে, তা নিয়ে কখনও চিন্তা করেননি বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যদি রাজনীতিতে নিজের ছাপ রাখতে চাইতাম, তা হলে অনেক আগেই নির্বাচনী রাজনীতিতে চলে আসতে পারতাম। কিন্তু সেটা আমার স্বভাব ছিল না।’

তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে দায়িত্ব ও কর্মের প্রসঙ্গ। মোদির কথায়, জীবনে যে দায়িত্বই দেওয়া হয়েছে, তা পালন করে গিয়েছেন। দেশের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করাই তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য বলে দাবি করেন তিনি।
ভগবদ্গীতার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কর্মই আমার সবকিছু, কর্মই আমার কর্তব্য।’ গীতার ‘কর্মণ্যেবাধিকারস্তে’ বাণীকে নিজের কর্মজীবনের অন্যতম প্রেরণা হিসেবেও তুলে ধরেন তিনি।
এদিনের সভায় ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ার সংকল্পের কথাও বলেন মোদি। লালকেল্লা থেকে তাঁর দেওয়া ‘সবকা প্রয়াস’-এর বার্তা উল্লেখ করে দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের উপর জোর দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী সভায় দেশবাসীর উদ্দেশে একাধিক লক্ষ্য পূরণের সংকল্পের কথা তুলে ধরেন। ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত, বিশ্বের শীর্ষ তিন অর্থনীতির মধ্যে জায়গা করে নেওয়া, আত্মনির্ভর ভারত গড়া, বিশ্বে উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে উঠে আসা, অলিম্পিক আয়োজন এবং মহাকাশে আরও বড় পদক্ষেপ—এই লক্ষ্যগুলির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা এটা করব।’
মোদি বলেন, ‘আজ শুধু স্মৃতিচারণের দিন নয়। আজ আমাদের সংকল্পে নতুন শক্তি যোগ করার দিন। সেই প্রতিশ্রুতি এবং দৃঢ়তা ফের মনে করার দিন, যা বলে—আমরা এটা করব।’
