31 C
Kolkata
August 22, 2026
রাজ্য

তালিকায় নাম থাকলে অন্নপূর্ণার সুবিধা মিলবেই, চুঁচুড়ায় আশ্বাস সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি— অন্নপূর্ণা প্রকল্পের তালিকায় নাম রয়েছে, অথচ এখনও টাকা পাননি—এমন মহিলাদের চিন্তার কোনও কারণ নেই। তালিকাভুক্ত প্রত্যেক যোগ্য মহিলা প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বলে শনিবার চুঁচুড়ায় আশ্বাস দিলেন হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারও নাম তালিকায় থাকার পরেও টাকা না এলে তাঁর নাম ও ঠিকানা সাংসদ দপ্তরে জমা দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

চুঁচুড়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রচনা বলেন, ‘যাঁরা অন্নপূর্ণা পাননি অথচ তালিকায় নাম রয়েছে, তাঁরা সবাই পাবেন। দেওয়া শুরু হয়েছে। একটু অপেক্ষা করুন। তার পরেও যদি না পান, নাম ও ঠিকানা সাংসদ দপ্তরে দিয়ে গেলে আমি ব্যবস্থা করব। সবাই অন্নপূর্ণা পাবেন।’

অন্নপূর্ণা প্রকল্পের টাকা না পাওয়া নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ইতিমধ্যেই ক্ষোভ ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও রাস্তা অবরোধ, কোথাও প্রশাসনিক দপ্তরের সামনে জমায়েত করেছেন মহিলারা। সেই আবহে হুগলির সাংসদের এই আশ্বাসকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এ দিন চুঁচুড়ায় একাধিক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন রচনা। প্রধানমন্ত্রী

নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসাও শোনা যায় তাঁর মুখে। তিনি বলেন, ‘মানুষ এখন উপলব্ধি করছে, মোদী ছাড়া গতি নেই।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে এ দিনের কর্মসূচিতে জেলার রাজনীতির অন্য একটি ছবিও নজরে এসেছে। চুঁচুড়ার একটি হোটেলে রচনার উপস্থিতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও প্রাক্তন জনপ্রতিনিধিদের একসঙ্গে দেখা যায়। সেখানে ছিলেন চুঁচুড়ার বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগ, কালীঘাটের তৃণমূলের কয়েক জন নেতা এবং হুগলি-চুঁচুড়া পুরসভার কয়েক জন প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর। একই জায়গায় বিভিন্ন দলের নেতাদের উপস্থিতি ঘিরে জেলার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

এর পাশাপাশি হুগলি লোকসভা এলাকার বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের সঙ্গে বৈঠক করেন সাংসদ। বৈঠকের মূল বিষয় ছিল স্মার্ট ক্লাস এবং ডিজিটাল গ্রন্থাগার তৈরি। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার গুরুত্বের কথা তুলে ধরে রচনা বলেন, ‘ভবিষ্যৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার। তাই এখন থেকেই ডিজিটাল পড়াশোনা শেখা অত্যন্ত জরুরি।’

হুগলি লোকসভা এলাকার বেশ কিছু স্কুল ইতিমধ্যেই স্মার্ট ক্লাস তৈরির জন্য আবেদন করেছে বলেও জানান সাংসদ। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে পড়ুয়াদের আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে পরিচিত করা সহজ হবে। স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েও এ দিন মন্তব্য করেন রচনা। সাম্প্রতিক নানা বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম সম্মানজনক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বহু বিশিষ্ট মানুষ এই প্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়েছেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের গরিমা ও মর্যাদা বজায় রাখা প্রয়োজন বলে মত তাঁর।

অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের সাম্প্রতিক ‘বন্দে মাতরম’ মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অবশ্য সরাসরি কোনও অবস্থান নেননি রচনা। তিনি বলেন, ‘এটা তাঁর নিজস্ব মতামত। কী ভেবে তিনি বলেছেন, সেটা সম্পূর্ণ তাঁর বিষয়। আমি এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না।’

বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য নিয়েও একই ভাবে প্রতিক্রিয়া এড়িয়ে যান তিনি। রচনার কথায়, ‘শমীকদা সুবক্তা। তিনি যা বলেছেন, তা নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না।’

সব মিলিয়ে, অন্নপূর্ণা প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে আশ্বাস, শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটাল পরিকাঠামোর প্রসঙ্গ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের একসঙ্গে দেখা যাওয়াকে ঘিরে শনিবার চুঁচুড়ায় রচনার কর্মসূচি একাধিক কারণে আলোচনায় উঠে এসেছে।

Related posts

Leave a Comment