রাজ্যের লক্ষাধিক মহিলার জন্য বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অন্নপূর্ণা যোজনায় সম্প্রতি নাম নথিভুক্ত করা নতুন উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আগামী ১ জুলাই ৩ হাজার টাকা করে পাঠানো হবে বলে বুধবার ফলতায় এক সরকারি অনুষ্ঠানে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গত ৩ জুন অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় প্রায় ২৮ লক্ষ মহিলা উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আর্থিক সহায়তার টাকা পাঠানো হয়েছে। এরপর আরও প্রায় ১ লক্ষ ৫ হাজার মহিলা এই প্রকল্পে আবেদন করেছেন। তাঁদের তথ্য যাচাইয়ের কাজ ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছে এবং নতুন উপভোক্তাদের তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন আবেদনকারীদের সমস্ত তথ্য পোর্টালে আপলোড করা হয়েছে। ফলে যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়া মহিলারা আগামী ১ জুলাই সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা পেয়ে যাবেন।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার গঠনের পর ধাপে ধাপে প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েক লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন বলে প্রশাসনের দাবি।
যদিও আবেদনপত্রের আকার এবং আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি প্রশ্ন তুলেছে। তাদের অভিযোগ, প্রকল্পে আবেদন করার পদ্ধতি তুলনামূলকভাবে জটিল। তবে সরকারের বক্তব্য, প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্যই সমস্ত তথ্য যাচাই করে অর্থ প্রদান করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট করে জানান, কোনও যোগ্য মহিলা যাতে প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। এখনও যাঁরা আবেদন করেননি, তাঁদের দ্রুত নাম নথিভুক্ত করার আহ্বানও জানান তিনি। প্রয়োজনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবেদন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।
অন্নপূর্ণা যোজনার নতুন কিস্তির দিনক্ষণ ঘোষণার ফলে লক্ষাধিক নতুন আবেদনকারীর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটল। এখন আগামী ১ জুলাইয়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা।
এদিকে একই অনুষ্ঠানে আসন্ন রাজ্য বাজেট নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আগামী ২২ জুন পেশ হতে চলা নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে যুবক-যুবতী, চাকরিপ্রার্থী, সরকারি কর্মচারী এবং কৃষকদের জন্য একাধিক নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করা হতে পারে।
যদিও বাজেট পেশের আগে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাতে চাননি। তবে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
