কলকাতা — অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্র প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। বিশেষ করে ১২ পাতার আবেদনপত্রে কেন এত তথ্য চাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে সরকারি আর্থিক সহায়তা প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে পৌঁছে দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য। সেই কারণেই আবেদনপত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাতে কোনও ধরনের ভুয়ো আবেদন বা অনিয়মের সুযোগ না থাকে।
শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের তথ্য যাচাই করতে গিয়েই একাধিক অসঙ্গতি সামনে এসেছে। তাঁর অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রে ভুয়ো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এমনকি কিছু পুরুষও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘এখন পর্যন্ত ২২টি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে পুরুষদের নামে সরকারি অর্থ গিয়েছে। তদন্ত যত এগোবে, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। যারা সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরূপের অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
তিনি আরও জানান, অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদনকারীদের পরিচয়, আর্থিক অবস্থা এবং যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্যই বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হচ্ছে। সরকারের উদ্দেশ্য কাউকে হয়রানি করা নয়, বরং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।
অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্র নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনারও জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কটাক্ষ, ‘‘যাঁরা এতদিন এই ফর্ম নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছিলেন, তাঁরাই এখন আবেদনপত্র জমা দেওয়ার লাইনে দাঁড়াচ্ছেন।’’
সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দেন, যোগ্য কোনও আবেদনকারী বঞ্চিত হবেন না। তিনি বলেন, ‘‘কেউ তাড়াহুড়ো করবেন না। সমস্ত আবেদন খতিয়ে দেখে যোগ্য ব্যক্তিদেরই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।’’
এছাড়াও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় আবেদনকারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, যাঁরা বৈধভাবে আবেদন করেছেন, তাঁদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই। তবে দেশের ভোটার নন বা বৈধ নথিপত্র নেই, এমন ব্যক্তিদের সরকারি সামাজিক ভাতা কেন দেওয়া হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, অন্নপূর্ণা যোজনার অফলাইন আবেদনপত্র আগেই প্রকাশ করা হয়েছিল। সোমবার থেকে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, স্বচ্ছতা বজায় রেখে এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করেই এই প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।
