মুম্বই— মাঠের বাইরে হাসি-মজায় মাতেন ইশান কিষাণ। কিন্তু ব্যাট হাতে ক্রিজে নামলেই বদলে যায় তাঁর মেজাজ। তখন হাসি উধাও, মনোযোগ থাকে পুরোপুরি ব্যাটিংয়ে। সতীর্থ ইশানের এই স্বভাবের কথা জানালেন অভিষেক শর্মা। তাঁর কথায়, ব্যাট করতে নামার পরে ইশানকে হাসিয়ে চাপমুক্ত রাখার চেষ্টা করেন তিনি। আর সেই সহজ সম্পর্কই মাঠে দু’জনের বোঝাপড়াকে আরও মজবুত করেছে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বড় রান তোলার ভিত গড়ে দিয়েছিল অভিষেক ও ইশানের বিধ্বংসী জুটি। দ্বিতীয় উইকেটে মাত্র ৪০ বলে ১০৮ রান যোগ করেন দুই বাঁহাতি ব্যাটার। অভিষেক ৩০ বলে ৬৯ রান করেন। অন্য দিকে, মাত্র ১৮ বলে ৩৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন ইশান। তাঁদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে শুরুতেই ম্যাচে চালকের আসনে চলে আসে ভারত।
ম্যাচের পরে অভিষেক বলেন, ‘ব্যাট করতে নামলে ইশান খুব সহজে হাসে না। তাই আমি প্রথমে ওকে হাসানোর চেষ্টা করি, একটু চাপমুক্ত করার চেষ্টা করি। কারণ, ব্যাট করতে নামার সময় ও একটা নির্দিষ্ট মানসিক অবস্থায় থাকতে পছন্দ করে।’
অভিষেক-ইশানের বোঝাপড়া অবশ্য শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ নয়। আইপিএলেও একসঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে দু’জনের। দীর্ঘ দিনের পরিচয়ের কারণে একে অপরের ব্যাটিংয়ের ধরন সম্পর্কে তাঁদের স্পষ্ট ধারণা রয়েছে। ফলে ক্রিজে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ে বারবার আলোচনা করার প্রয়োজন হয় না।
অভিষেকের কথায়, ‘আমাদের মধ্যে একটা ভাল বোঝাপড়া রয়েছে। আইপিএলেও আমরা একসঙ্গে অনেক পার্টনারশিপ গড়েছি। একে অপরকে খুব ভাল বুঝি। ইশান যখন একটি উইকেট পড়ার পরে ব্যাট করতে নামে, তখন প্রথম দিকে একটু চাপ থাকে। আমি সব সময় চাই, ও যেন সেই চাপ থেকে বেরিয়ে আসে এবং নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলে।’
তিনি আরও জানান, ব্যাটিংয়ের সময় পিচ বা ম্যাচের পরিস্থিতি নিয়ে তাঁরা খুব বেশি কথা বলেন না। বরং একে অপরের খেলা উপভোগ করেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পাশে দাঁড়ান। তাঁদের এই স্বাভাবিক বোঝাপড়াই দ্রুত রান তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

পাওয়ার প্লে-তে ঝড় তোলার প্রস্তুতি
আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের পিছনে নিজের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন অভিষেক। তাঁর মতে, পাওয়ার প্লে-তে যত বেশি রান তোলা সম্ভব, দলের পক্ষে ততই ভাল। তবে শুরু থেকেই বড় শট খেলার জন্য শুধু আত্মবিশ্বাস নয়, প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাও। প্রতিপক্ষের বোলার, তাঁদের বোলিংয়ের ধরন এবং ম্যাচের পরিস্থিতি মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নেন তিনি।
ভারতের তরুণ ওপেনার বলেন, ‘প্রস্তুতি খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি যদি এই ভাবে খেলতে চাই, তা হলে পাওয়ার প্লে-র সদ্ব্যবহার করতে হবে। আর তার জন্য প্রস্তুতি জরুরি। কোন দলের বিরুদ্ধে খেলছি, কোন বোলার বল করবেন, তার উপর পরিকল্পনা নির্ভর করে। সময় পেলেই আমি নির্দিষ্ট বোলারকে নিয়ে ভাবি এবং কী ভাবে নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করব, তা ঠিক করি।’
নমন ধীরের পাশে অভিষেক
সতীর্থ নমন ধীরের বোলিংয়ের প্রশংসাও করেছেন অভিষেক। অনূর্ধ্ব-১৪ স্তর থেকেই নমনকে চেনেন তিনি। ফলে তাঁর বোলিংয়ের দক্ষতা সম্পর্কে অভিষেকের যথেষ্ট ধারণা রয়েছে। চাপের পরিস্থিতিতে নমনকে নিজের পরিকল্পনায় স্থির থাকার পরামর্শ দেন বলেও জানিয়েছেন ভারতীয় ওপেনার।
অভিষেক বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-১৪ পর্যায় থেকে ওকে দেখছি। তাই জানি, ও কত ভাল বল করতে পারে। শুধু ওকে পরিকল্পনাটা বুঝিয়ে দিতে হয়। পর পর দু’টি ছক্কা খাওয়ার পরে কোনও বোলারই হয়তো খুব বেশি ভাবতে পারেন না। আমরা চেয়েছিলাম, ও একটু সময় নিক এবং নিজের সেরা বল— অফ স্পিনটাই করুক।’
নমনের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী অভিষেক। তাঁর বিশ্বাস, নিজের দক্ষতা ও পরিকল্পনা ধরে রাখতে পারলে আগামী কয়েক বছরে ভারতের হয়ে ভাল পারফরম্যান্স করার ক্ষমতা রয়েছে নমনের।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ভারতের জয়ের নেপথ্যে অভিষেকের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল ইশানের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়া। একজন যখন ব্যাট হাতে আক্রমণ শানাচ্ছেন, অন্য জন তখন চাপ কমিয়ে স্বাভাবিক খেলায় ফেরার চেষ্টা করছেন। মাঠের এই পারস্পরিক আস্থা এবং ক্রিকেট উপভোগ করার মানসিকতাই তাঁদের জুটিকে আরও কার্যকর করে তুলছে।
