30 C
Kolkata
October 27, 2026
রাজ্য

এনকাউন্টারের পক্ষে রত্না দেবনাথ, জানালেন নিজের মত

নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা— ধর্ষণ ও খুনের মতো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশি ‘এনকাউন্টার’-এর পক্ষে সরব হলেন পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। গাইঘাটায় নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্ত এক যুবকের পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, এমন পদক্ষেপে অপরাধীদের মনে ভয় তৈরি হতে পারে। আরজি কর-কাণ্ডে নিজের মেয়ের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপ করা হলে তিনি খুশি হতেন বলে জানিয়েছেন বিধায়ক। একই সঙ্গে রাজ্যে সব ধরনের নেশাজাত দ্রব্য নিষিদ্ধ করার দাবিও তুলেছেন তিনি।

গত চার মাসের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্তের পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর দু’টি ঘটনা সামনে এসেছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় মূল অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল পুলিশের গুলিতে। সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটাতেও একই ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ফেরার পথে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালানো বা পালানোর চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়।

গাইঘাটার ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এনকাউন্টারের পক্ষে ও বিপক্ষে নানা মত উঠে এসেছে। এ বার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে রত্না দেবনাথ জানিয়েছেন, তিনি এই ধরনের পুলিশি পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ সমর্থন করেন। তাঁর বক্তব্য, যে সমস্ত অপরাধী নারীদের ভোগ্যপণ্য হিসেবে দেখে এবং ধর্ষণ ও খুনের মতো অপরাধে জড়িত হয়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ হওয়া প্রয়োজন। এমন ঘটনা ঘটলে অপরাধীদের মধ্যে কিছুটা হলেও ভয় তৈরি হবে বলে মনে করেন তিনি।



নিজের মেয়ের মৃত্যুর প্রসঙ্গও টেনে আনেন রত্না। আরজি কর-কাণ্ডে মেয়ের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গাইঘাটার ঘটনায় যে পদক্ষেপ হয়েছে, তাঁর মেয়ের ঘটনার অভিযুক্তদের ক্ষেত্রেও এমন পদক্ষেপ করা হলে তিনি খুশি হতেন। অভিযুক্তের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা থাকলেও গুরুতর অপরাধের দায় এড়ানো যায় না বলেও মন্তব্য করেন বিধায়ক।

নেশাজাত দ্রব্য নিষিদ্ধ করার দাবি

ধর্ষণ ও খুনের মতো অপরাধের পিছনে নেশাজাত দ্রব্যের ভূমিকা রয়েছে বলেও দাবি করেছেন রত্না দেবনাথ। তাঁর বক্তব্য, অনেক ক্ষেত্রে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মানুষ অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। সেই কারণেই রাজ্যে সব ধরনের নেশাজাত দ্রব্য নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ অপরাধের প্রবণতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

তবে অপরাধের সঙ্গে নেশার সম্পর্ক নিয়ে বিধায়কের এই বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত মত। অপরাধের কারণ ও তা প্রতিরোধের উপায় নির্ধারণে তদন্ত, অপরাধের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

আরজি কর-কাণ্ডের তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন

নিজের মেয়ের মৃত্যুর প্রসঙ্গে আগের সরকার ও বর্তমান সরকারের ভূমিকার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলেও দাবি করেছেন রত্না। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে অপরাধীদের ধরার বদলে ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা হয়েছিল। আরজি কর-কাণ্ডে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে ওই মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচার এবং প্রমাণের উপরেই নির্ভরশীল।



গাইঘাটার ঘটনায় পুলিশের দাবিকে সমর্থন জানালেও এনকাউন্টার নিয়ে রাজনৈতিক ও মানবাধিকার মহলে প্রশ্ন উঠছে। পুলিশের হেফাজতে থাকা কোনও অভিযুক্তের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কীভাবে ছিনিয়ে নেওয়া সম্ভব হল, এবং গুলি চালানোর পরিস্থিতি কীভাবে তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের দাবি উঠেছে। পুলিশের বক্তব্য, আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালানো হয়েছিল। অন্যদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলির একাংশ ঘটনার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ধর্ষণ ও খুনের মতো অপরাধে দ্রুত বিচার এবং দোষীদের শাস্তির দাবি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ঐকমত্য থাকলেও, এনকাউন্টারকে কতটা সমর্থন করা যায়, তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। রত্না দেবনাথের বক্তব্য সেই বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এল। তবে গাইঘাটার ঘটনায় পুলিশের পদক্ষেপের আইনগত বৈধতা এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

Related posts

Leave a Comment