28 C
Kolkata
October 26, 2026
কলকাতা

চোরবাগান কাণ্ডে থিমশিল্পীকে তলব, তদন্তে গতি বাড়াল লালবাজার

সংবাদ কলকাতা: চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপ ভেঙে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের গতি বাড়াল কলকাতা পুলিশ। মণ্ডপের নকশা, নির্মাণপদ্ধতি এবং সম্ভাব্য ত্রুটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে থিমশিল্পী সুশান্ত শিবানী পালকে তলব করেছে লালবাজার। বুধবারের মধ্যে তাঁকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত তিন প্রত্যক্ষদর্শীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের বয়ান থেকে বিপর্যয়ের মুহূর্তে ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা এবং কারও গাফিলতি ছিল কি না, তা নির্ধারণ করাই তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের তরফে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। সেই দলের সদস্যরা খতিয়ে দেখছেন, কী ধরনের নকশা অনুসরণ করে মণ্ডপটি তৈরি হয়েছিল, নির্মাণের সময় নির্ধারিত সুরক্ষাবিধি মানা হয়েছিল কি না এবং মণ্ডপের কোনও অংশে কাঠামোগত ত্রুটি ছিল কি না।

এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পেতে থিমশিল্পীর বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তদন্তকারীরা। মণ্ডপের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, সে সম্পর্কে তাঁর কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হতে পারে। তবে মণ্ডপ নির্মাণে কোনও ত্রুটি ছিল কি না, তা তদন্তের ফল প্রকাশ্যে আসার পরেই স্পষ্ট হবে।

ঘটনার পর নিজের তৈরি মণ্ডপে এত মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় শিল্পী তাঁর দায়বদ্ধতার কথা প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে মণ্ডপ তৈরির পরিকল্পনা এবং নির্মাণসংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর বক্তব্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে দুর্ঘটনার জন্য কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা পক্ষের গাফিলতি ছিল কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দু’জন ঘোষক। দুর্ঘটনার সময় মাইকে বিভ্রান্তিকর ঘোষণা করার অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সেই সময় মণ্ডপে কী ধরনের ঘোষণা করা হয়েছিল এবং তার ফলে দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে।

তদন্তকারীরা তিন প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানও খতিয়ে দেখছেন। দুর্ঘটনার আগে মণ্ডপের পরিস্থিতি কেমন ছিল, কীভাবে ভিড় বাড়ছিল এবং মণ্ডপের অংশ ভেঙে পড়ার পর দর্শনার্থীদের মধ্যে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেই সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের সঙ্গে অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ মিলিয়ে ঘটনার ধারাবাহিকতা পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করার পাশাপাশি সম্ভাব্য গাফিলতির দিকটিও খতিয়ে দেখতে চাইছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর সপ্তমীর সন্ধ্যায় আচমকা বৃষ্টি এবং দর্শনার্থীদের ভিড়ের চাপে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপের একাংশ ভেঙে পড়ে বলে অভিযোগ। সেই সময় মণ্ডপে উপস্থিত দর্শনার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান ১৯ জন। উৎসবের মরসুমে এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে।

দুর্গাপুজোর মতো বড় জনসমাগমের অনুষ্ঠানে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, মণ্ডপের নির্মাণপদ্ধতি এবং জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে এই বিপর্যয়ের পর। এখন তদন্তকারীদের নজর মণ্ডপের নকশা, নির্মাণের সুরক্ষাব্যবস্থা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনার সময় মাইকে ঘোষণার ভূমিকার দিকে। থিমশিল্পী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, তার দিকেই নজর রয়েছে।

Related posts

Leave a Comment