26 C
Kolkata
October 26, 2026
কলকাতা

কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে হাই কোর্টে মামলা

ফাইল চিত্র

সংবাদ কলকাতা: কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস এবং সীমানা নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন কসবার এক বাসিন্দা। পুরসভার ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করার প্রক্রিয়ায় যুক্তিসঙ্গত সামঞ্জস্য বজায় রাখা হয়নি বলে অভিযোগ মামলাকারীর। পুরভোটের আগে এই মামলা ঘিরে নতুন করে আইনি জটিলতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সোমবার কলকাতা হাই কোর্টের পুজো অবকাশকালীন বেঞ্চে মামলাটি দায়েরের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। আগামী ২৮ অক্টোবর মামলার শুনানি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। তবে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের বৈধতা নিয়ে আদালত এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

মামলাকারীর আইনজীবী শামীম আহমেদ সোমবার বিচারপতি আর্যক দত্তের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই মামলা দায়েরের অনুমতি চান। কলকাতা পুরসভার নতুন ওয়ার্ড বিন্যাসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। মামলাকারীর বক্তব্য, নতুন করে ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যুক্তিসঙ্গত ভারসাম্য বজায় রাখা হয়নি। ফলে গোটা প্রক্রিয়ার যৌক্তিকতা এবং আইনগত বৈধতা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

একসময় কলকাতা পুরসভায় ওয়ার্ডের সংখ্যা ছিল ১৪৪। নতুন বিন্যাসে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২০৯। অর্থাৎ, ওয়ার্ডের সংখ্যা বেড়েছে ৬৫টি। মামলাকারীর অভিযোগ, এই পরিবর্তনের সময় জনসংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রশাসনিক সুবিধার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণে অসঙ্গতি রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি, জনসংখ্যার বিন্যাসের সঙ্গে নতুন ওয়ার্ডের কাঠামোর সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মামলাকারী।

আইনজীবী শামীম আহমেদের বক্তব্য, নতুন ওয়ার্ডগুলির সীমানা নির্ধারণে যুক্তিসঙ্গত ভারসাম্যের অভাব রয়েছে। সেই কারণেই পুনর্বিন্যাসের পদ্ধতি খতিয়ে দেখতে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে মামলাকারীর অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। শুনানিতে দুই পক্ষের বক্তব্য এবং প্রাসঙ্গিক নথি পর্যালোচনার পরই এ বিষয়ে আদালতের অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে।

এদিকে, নভেম্বর মাসে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার নির্বাচন হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে। যদিও নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা এই মুহূর্তে জানা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে মামলা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, ওয়ার্ডের সীমানা বদলের সঙ্গে নির্বাচনী এলাকার কাঠামো, প্রার্থী বাছাই এবং রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার পরিকল্পনা সরাসরি জড়িত।

নতুন ওয়ার্ড বিন্যাস কার্যকর থাকলে রাজনৈতিক দলগুলিকে সেই অনুযায়ী নিজেদের সাংগঠনিক প্রস্তুতি সাজাতে হবে। কোন ওয়ার্ডে কোন এলাকা থাকবে, ভোটারদের ভৌগোলিক বিন্যাস কীভাবে বদলাবে এবং প্রার্থীদের নির্বাচনী সমীকরণে কী প্রভাব পড়বে, সেই বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, আদালত যদি পুনর্বিন্যাসের পদ্ধতি নিয়ে কোনও প্রশ্ন তোলে, তবে পুরসভার নির্বাচনী প্রস্তুতিতেও তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকবে।

তবে মামলাটি দায়েরের উদ্যোগের জেরে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যাবে, এমন কোনও নির্দেশ এখনও দেওয়া হয়নি। তাই আপাতত নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই। আগামী ২৮ অক্টোবর সম্ভাব্য শুনানিতে মামলাকারীর অভিযোগ কতটা গুরুত্ব পায়, সেটাই এখন দেখার।

পুরভোটের প্রস্তুতির আবহে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ডের মানচিত্র নিয়ে আদালতে প্রশ্ন ওঠায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নজর বেড়েছে। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের পদ্ধতি, সীমানা নির্ধারণের যুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিধি নিয়ে শুনানিতে কী উঠে আসে, তার উপরই পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকটা নির্ভর করবে।

Related posts

Leave a Comment