28 C
Kolkata
October 26, 2026
দেশ

আদানি-মোদী ভিডিও সরানোর নির্দেশ হাই কোর্টের

সংবাদ কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও আদানি গোষ্ঠীর সম্পর্ক নিয়ে তৈরি ‘মোদি-আদানির বন্ধুত্বে ভারত লুঠ!’ শীর্ষক বিতর্কিত ভিডিও ঘিরে আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। আদানি এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডের দায়ের করা মানহানির মামলায় ভিডিওটি বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি আর্যক দত্ত। ইউটিউব, এক্স ও ইনস্টাগ্রাম-সহ সংশ্লিষ্ট অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলিকে ভিডিওটি সরানোর পাশাপাশি তার পুনঃপ্রকাশ ও প্রচার বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এই অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

আদানি এন্টারপ্রাইজেসের অভিযোগ, ভিডিওটিতে সংস্থার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে পরিকল্পিতভাবে ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছে। ভিডিওটির নির্মাতা সাবির ভাটিয়া-সহ একাধিক ব্যক্তি ও ডিজিটাল মাধ্যমকে মামলায় পক্ষ করা হয়েছে। সংস্থার দাবি, বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ায় তাদের ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেই কারণেই ভিডিওটির প্রচার বন্ধ করতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে তারা।


শুনানিতে আদানি গোষ্ঠীর আইনজীবী অনির্বাণ রায় দাবি করেন, ভিডিওতে তোলা অভিযোগগুলি অসত্য ও মানহানিকর। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর সম্পর্ক, গুজরাতে জমি বরাদ্দ, কয়লা খনির বরাত এবং মুম্বই বিমানবন্দরের দায়িত্ব পাওয়ার মতো বিষয়কে একসূত্রে জুড়ে সংস্থাটির বিরুদ্ধে বেআইনি সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা হয়েছে।

মুন্দ্রা বন্দরে মাদক পাচার, জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগ এবং হিন্ডেনবার্গের অভিযোগের প্রসঙ্গও ভিডিওতে তুলে ধরা হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়। আদানি গোষ্ঠীর দাবি, এই বিষয়গুলিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে সংস্থার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগগুলি প্রতিষ্ঠিত সত্য বলে মনে হয়। যদিও ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগগুলির সত্যতা নিয়ে আদালত এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।

শুনানির সময় বিচারপতি আর্যক দত্ত জানতে চান, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সাহায্যে তৈরি কি না। আদানি গোষ্ঠীর আইনজীবী জানান, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি নয়। অন্যদিকে, গুগলের আইনজীবী প্রজ্ঞা জৈন মামলার গ্রহণযোগ্যতা এবং কলকাতা হাই কোর্টের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে আদালত নির্দেশ দিলে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম থেকে ভিডিও সরানোর বিষয়ে পদক্ষেপ করা হবে বলে জানান তিনি।


আদানি গোষ্ঠীর তরফে আদালতে আরও অভিযোগ করা হয়, মূল ভিডিওটির প্রচার বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ও চ্যানেল থেকে সেটি ফের আপলোড এবং শেয়ার করা হচ্ছিল। তাই শুধু মূল ভিডিও নয়, তার অনুলিপি, বিভিন্ন অংশ এবং পুনঃপ্রকাশের মাধ্যমে প্রচারও বন্ধ করার আবেদন জানানো হয়।

আদালতের নির্দেশে ভিডিওটি সরানোর পাশাপাশি তার পুনরায় আপলোড, প্রকাশ ও শেয়ার করার উপরও অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সামাজিক মাধ্যমগুলিকে নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্ট, লিঙ্ক, ব্যবহারকারীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য এবং লগ সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের তথ্য আদালতে জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখতে বলা হয়েছে।

তবে এই নির্দেশের পরিসর সম্পর্কে আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেছে। বিতর্কিত ভিডিওটি এবং তার সঙ্গে যুক্ত নির্দিষ্ট বক্তব্যের বাইরে আদানি গোষ্ঠী বা সরকারি নীতি নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা কিংবা তথ্যভিত্তিক সংবাদ পরিবেশনে এই নির্দেশ বাধা সৃষ্টি করবে না। অর্থাৎ, ভিডিওটির প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশকে আদানি গোষ্ঠী বা সরকারি নীতি সম্পর্কে সমস্ত ধরনের সমালোচনার উপর নিষেধাজ্ঞা হিসেবে দেখা যাবে না।

মামলার পরবর্তী পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে হলফনামা জমা দিতে হবে। তার পরে আদানি গোষ্ঠীও নিজেদের বক্তব্যের জবাব দেওয়ার সুযোগ পাবে। আপাতত মানহানির অভিযোগের ভিত্তিতে ভিডিওটি সরানো এবং তার প্রচার বন্ধ রাখার অন্তর্বর্তী নির্দেশই কার্যকর রয়েছে।

Related posts

Leave a Comment