নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব মেদিনীপুর: তমলুকের কাকগাছিয়ায় নতুন দলীয় কার্যালয় গড়ে তোলার উদ্যোগের মধ্যেই আসন্ন হলদিয়া পুরসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করল বিজেপি। সোমবার প্রায় সাড়ে ৩৩ ডেসিমেল জমিতে বৈদিক রীতি মেনে হোমযজ্ঞ ও ভূমিপুজোর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তমলুক সাংগঠনিক জেলার বিজেপি নেতারা এবং ময়নার বিধায়ক অশোক দিন্দা-সহ দলের একাধিক নেতা। সেখান থেকেই দলীয় কর্মীদের হলদিয়া পুরসভার ৩০টি আসনেই জয়ের লক্ষ্যে সর্বশক্তি দিয়ে লড়াইয়ের আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে বলেন, পুরসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে। তাঁর দাবি, জেলার সমস্ত কর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে হবে এবং কোনও আসনই বিরোধীদের জন্য ছেড়ে রাখা যাবে না। একই সঙ্গে আগামী নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ৬০ শতাংশের বেশি ভোট পেতে পারে বলেও আশাপ্রকাশ করেন তিনি।
শুভেন্দুর কথায়, ‘পুরো জেলার কর্মীরা ঝাঁপিয়ে পড়বেন। একদম শূন্য করে দিতে হবে ৩০টি আসনেই। একদম বাটি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খালি হাতে পাঠাতে হবে। অনেক ক্ষতি করে দিয়েছে আমাদের। যাতে আর কোনও ক্ষতি করতে না পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বউনি করতে দেব না। লিখে রাখুন আমার নাম করে। জনগণ আমার সঙ্গে আছে।’
তৃণমূলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, বিধায়ক ও সাংসদদের ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। শুভেন্দুর দাবি, ৮০ জন বিধায়ককে জিতিয়েও তাঁদের ধরে রাখতে পারেননি মমতা। একই ভাবে ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জনকে ধরে রাখতে না পারার দায়ও তাঁর। নিজের দলের সমস্যা সামলানোর পর বিজেপিকে আক্রমণ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এই প্রসঙ্গে ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্যের উল্লেখ করে শুভেন্দু প্রশ্ন তোলেন, ফিরহাদ কি বিজেপির নেতা, নাকি দলের মুখপাত্র? তাঁর দাবি, তৃণমূলের অন্দরের বক্তব্য থেকেই দলের সাংগঠনিক সমস্যার ছবি সামনে আসছে। তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে তৃণমূলের পালটা বক্তব্য অনুষ্ঠানে বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি।
বামফ্রন্টকেও আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনকালে বাংলাকে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ করার চেষ্টা হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্যে ৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকা বাম নেতৃত্বের রাজনৈতিক আদর্শ নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, বামপন্থীদের বাড়িতে স্বামী বিবেকানন্দ, ক্ষুদিরাম বসু ও মাতঙ্গিনী হাজরার ছবির বদলে চে গুয়েভারার ছবি দেখা যায়। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এই অভিযোগের বিরোধিতা করে দাবি করেছেন, এ ধরনের মন্তব্যের মাধ্যমে রাজ্যে হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের রাজনীতি করার চেষ্টা হচ্ছে।
ব্রাজিলের বামপন্থী নেতা লুলার চতুর্থবারের জন্য প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু। ব্রাজিলে বামেদের সাফল্যে এ রাজ্যের বামপন্থীদের উচ্ছ্বাস নিয়ে কটাক্ষ করেন তিনি। অন্যদিকে, লুলাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতির এই ঘটনাও রাজ্যের রাজনৈতিক বিতর্কে উঠে আসে।
দুর্গাপুজোর প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু জানান, এ বছর রাজ্যে প্রায় ৬৬ হাজার দুর্গাপুজো হয়েছে। উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু এবং ২৫ জনের আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করে শোক প্রকাশ করেন তিনি। আহতদের চিকিৎসা ও বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন। তাঁর আরও বক্তব্য, আদালতের দ্বারস্থ না হয়েই প্রায় ১৩ হাজার নতুন পুজোকে সরকারি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জাতীয়তাবাদ, দেশপ্রেম, বাংলার সংস্কৃতি এবং সনাতনী ঐতিহ্য রক্ষায় তাঁর সরকার কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
