September 25, 2026
রাজ্য

মিলন প্রধানের রক্ষাকবচ খারিজ, জামিনের আবেদন করতে বলল কলকাতা হাই কোর্ট

সংবাদ কলকাতা: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে নতুন মামলায় দেওয়া রক্ষাকবচ খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। তাঁকে নতুন করে জামিনের আবেদন করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র বি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের বেঞ্চ একক বেঞ্চের আগের নির্দেশ খারিজ করে এই নির্দেশ দেয়।

এর আগে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ জানিয়েছিল, মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে নতুন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো যাবে না। পাশাপাশি ওই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য।

শুনানিতে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, মিলন প্রধান আগাম জামিনের আবেদন করেননি কেন? গ্রেপ্তার হওয়ার পরে কেন জামিনের আবেদন করা হয়নি, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। প্রধান বিচারপতি জানান, আইন মেনে চলার বিষয়টি আদালতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বক্তব্যের সারকথা, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া কাউকে আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার কারণ হতে পারে না।

রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার আদালতে জানান, যে মামলায় মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সেখানে আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে রাজ্যের দাবি। আরও একটি মামলায় ১৯ সেপ্টেম্বর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলেও আদালতে জানানো হয়। ২২ সেপ্টেম্বরের আদালতের নির্দেশের পরে নতুন করে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে রাজ্যের বক্তব্য।

রাজ্যের তরফে আরও জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট পুরনো মামলাগুলিতে ২০২১ সাল থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। দীর্ঘদিন ধরে মামলাগুলিতে কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি। পুরনো মামলাগুলি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও আদালতে জানায় রাজ্য।

অন্যদিকে, মিলন প্রধানের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য আদালতে জানান, উপনির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পরে এবং তাঁকে সমর্থনের ঘোষণা আসার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর মিলন মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। তার কয়েক দিন পর তাঁকে পুরনো মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় বলে আদালতে সওয়াল করেন তাঁর আইনজীবী। ভোটের আগে নতুন করে জামিনের আবেদন করার জন্য পর্যাপ্ত সময় নেই বলেও তিনি জানান।

এই বক্তব্যের পর প্রধান বিচারপতি বলেন, বিষয়টি জামিনের আবেদনের মাধ্যমে মোকাবিলা করাই উপযুক্ত। তাঁর বক্তব্য, প্রয়োজন হলে ছুটির দিনেও আদালত বসতে পারে। আইনি প্রক্রিয়া শনিবার বা রবিবারে থেমে থাকে না।

প্রধান বিচারপতি আরও স্পষ্ট করেন, মিলন প্রধান নির্বাচনে লড়তে পারেন। কিন্তু প্রার্থী হওয়ার কারণে আইনের বাইরে কোনও বিশেষ সুবিধা পাওয়া যাবে না। আইনের চোখে প্রত্যেক নাগরিক সমান এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়ার কোনও বিরোধ নেই বলেও আদালত জানায়।

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে ৬ অক্টোবর ভোট হওয়ার কথা। তার আগে মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে চলা মামলাগুলিকে ঘিরে আইনি পরিস্থিতি নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Related posts

Leave a Comment