সংবাদ কলকাতা:— দুর্গাপুজো (Durga Puja 2026) শুরু হতে আর বেশি দেরি নেই। তার আগেই রাজ্যের সমস্ত পুজো কমিটিকে নিয়ে সমন্বয় বৈঠকের (Coordination Meeting) ডাক দিয়েছে রাজ্য সরকার। তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তর (Department of Information and Cultural Affairs) জানিয়েছে, আগামী ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টেয় মিলন মেলা প্রাঙ্গণে (Milan Mela Prangan) এই বৈঠক হবে। বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
পুজোর প্রস্তুতি (Puja Preparations), পুলিশি নিরাপত্তা (Police Security), যান নিয়ন্ত্রণ (Traffic Management), দমকলের প্রস্তুতি (Fire Safety) এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা (Administrative Management)— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বৈঠকের আলোচনায় আসতে পারে। বড় পুজোর পাশাপাশি ছোট পুজো কমিটিগুলির প্রয়োজন ও প্রশাসনিক সমস্যার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) পর রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে এটিই প্রথম সরাসরি সমন্বয় বৈঠক। ফলে প্রশাসনিক মহলের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও বৈঠকটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এর আগে তৃণমূল সরকারের আমলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে পুজোর প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নির্দেশ দিতেন।
এদিকে পুজোর আগে আমিষ খাবার বিক্রি বা খাওয়া নিয়ে একটি বার্তা সমাজমাধ্যমে (Social Media) ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই বার্তায় পুজো মণ্ডপের আশপাশে আমিষ খাবার নিয়ে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়। এর সঙ্গে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (Vishwa Hindu Parishad) নাম জড়ালেও সংগঠনের তরফে সেই দাবি অস্বীকার করা হয়েছে। নবান্ন (Nabanna) সূত্রেও জানানো হয়েছে, এ ধরনের কোনও খাদ্যতালিকা বা নিষেধাজ্ঞা জারি করার পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের নেই।
ফলে ৭ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এই বিতর্কিত বার্তা নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন কি না, সেদিকেও নজর থাকবে। একই সঙ্গে পুজো কমিটিগুলিকে দেওয়া সরকারি অনুদান (Puja Grant) এবার বহাল থাকবে কি না, থাকলে অনুদানের পরিমাণে কোনও পরিবর্তন হবে কি না, তা নিয়েও উদ্যোক্তাদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে।
বৈঠকে পুলিশি নিরাপত্তা, দমকলের প্রস্তুতি, যান নিয়ন্ত্রণ এবং মণ্ডপ সংলগ্ন এলাকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিষেবা এবং বড় পুজোগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি ছোট পুজো কমিটিগুলির প্রশাসনিক প্রয়োজন নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজ্যের সবচেয়ে বড় উৎসবের আগে নতুন সরকারের প্রথম পুজো সমন্বয় বৈঠক হওয়ায় ৭ সেপ্টেম্বরের এই বৈঠককে ঘিরে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে পুজো উদ্যোক্তাদের মধ্যেও। প্রশাসন ও পুজো কমিটিগুলির মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে নতুন সরকার কী ধরনের নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই নজর।
