September 5, 2026
রাজ্য

৬৫ ঘণ্টা পর ফরাক্কায় রেল পরিষেবা স্বাভাবিক, স্বস্তি যাত্রীদের

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরাক্কা: প্রবল বৃষ্টির জেরে নিউ ফরাক্কা (New Farakka) স্টেশনের কাছে রেললাইনে ধস নেমে থমকে গিয়েছিল উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ রেল যোগাযোগ। বুধবার গভীর রাতের সেই বিপর্যয়ের পর প্রায় ৬৫ ঘণ্টা ধরে চলে মেরামতির কাজ। বার বার ধস এবং বৃষ্টির বাধা পেরিয়ে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর ফের ওই পথে ট্রেন চলাচল শুরু হল। তবে কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেন এখনও ঘুরপথে চালানো হচ্ছে।

বুধবার রাত ১টা ৯ মিনিট নাগাদ নিউ ফরাক্কা স্টেশনে ঢোকার মুখে আপ লাইনে ধস নামে। সেই সময় ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিল আপ উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস (Uttar Banga Express)। হঠাৎ ট্রেনে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি অনুভব করেন লোকো পাইলট (Loco Pilot)। সঙ্গে সঙ্গে ট্রেন থামিয়ে কন্ট্রোল রুমে খবর দেন তিনি। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রেলকর্মীরা দেখতে পান, প্রবল বৃষ্টির জেরে লাইনের নীচের মাটি এবং ব্যালাস্ট (Ballast) ধসে গিয়ে একটি অংশ কার্যত ফাঁকা হয়ে গিয়েছে।

চালকের সময়োচিত পদক্ষেপেই বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে রেল সূত্রে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে ওই লাইনে সঙ্গে সঙ্গে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গমুখী একাধিক ট্রেনকে দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে আটকে রাখা হয়। পরে কয়েকটি ট্রেনকে ঘুরপথে (Diversion) গন্তব্যে পাঠানো হয়।

ঘটনার পরেই মেরামতির কাজে নামে পূর্ব রেল (Eastern Railway)। কিন্তু প্রবল বৃষ্টির কারণে কাজ বার বার ব্যাহত হয়। বৃহস্পতি ও শুক্রবার ওই এলাকায় ফের ধস নামায় মেরামতির কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। তবু ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পাইলিং (Piling), পাথরের গুঁড়ো দিয়ে ভরাট এবং ব্যালাস্ট প্যাকিং (Ballast Packing)-সহ প্রয়োজনীয় কাজ চালিয়ে যান রেলকর্মীরা।

প্রথম পর্যায়ে ছ’টি পাইলিং রিগ (Piling Rig) এবং প্রায় ২০০ জন কর্মীকে কাজে নামানো হয়। পরে আরও কর্মী ও যন্ত্রপাতি আনা হয়। রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং ইঞ্জিনিয়ারেরা দিনরাত ঘটনাস্থলে থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখেন।

মেরামতির কাজ শেষ হওয়ার পর শুরু হয় নিরাপত্তা যাচাই। যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর আগে নতুন করে বসানো ট্র্যাকের উপর খালি ট্রেন চালিয়ে ট্রায়াল রান (Trial Run) করা হয়। নতুন ট্র্যাক কতটা ভার নিতে পারছে, তা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল পাওয়ার পর ওভারহেড তারের (Overhead Equipment) প্রয়োজনীয় মেরামতি করা হয়। সব ধরনের নিরাপত্তা পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরেই যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়।

পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাজি (Shibram Majhi) বলেন, ‘যে কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, দ্রুত পরিষেবা চালু এবং ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের সেবা পৌঁছে দেওয়াই রেলের প্রধান অগ্রাধিকার।’

শনিবার সন্ধ্যার পর নতুন করে কোনও ট্রেন বাতিলের ঘোষণা করেনি রেল। তবে কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস (Kanchankanya Express), গৌড় এক্সপ্রেস (Gour Express), পদাতিক এক্সপ্রেস (Padatik Express) এবং দার্জিলিং মেল (Darjeeling Mail)-কে ঘুরপথে চালানো হয়েছে।

ফরাক্কার রেল যোগাযোগ বিপর্যস্ত থাকায় গত দু’-তিন দিন ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েছিলেন যাত্রীরা। একের পর এক ট্রেন বাতিল হওয়ায় দূরপাল্লার বাসের উপর চাপ বাড়ে। ধর্মতলা (Dharmatala) এলাকায় বাসের টিকিটের জন্য যাত্রীদের ভিড়ও দেখা যায়। অভিযোগ ওঠে, চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সুযোগে বেসরকারি বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। সরকারি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসে আসন না পেয়ে অনেক যাত্রীকে বেশি টাকা দিয়ে বেসরকারি বাসে যেতে হয়েছে।

অবশেষে শনিবার সন্ধ্যার পর পরিস্থিতির বদল ঘটে। ৬৫ ঘণ্টার মেরামতি শেষে ফরাক্কার উপর দিয়ে ফের উত্তরবঙ্গগামী ও দক্ষিণবঙ্গমুখী যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথ ফের সচল হওয়ায় দীর্ঘ দুর্ভোগের পর স্বস্তি ফিরেছে যাত্রী ও পর্যটকদের মধ্যে।

Related posts

Leave a Comment