চুঁচুড়া — নাম অন্নপূর্ণা কাহার। চুঁচুড়া বড় বাজারে ভাড়া ঘরে থাকেন তিনি। পরিচারিকার কাজ করে কোনও রকমে সংসার চালান। বর্ষায় তাঁর ঘরের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। ছাদ দিয়ে বৃষ্টির জল ঢোকে। ত্রিপল দিয়ে জল আটকানোর চেষ্টা করতে হয়। সেই অন্নপূর্ণার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেই সোমবার জমা পড়ল অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা।
সরকারি প্রকল্পের অর্থ পাওয়ার পরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অন্নপূর্ণা। তিনি জানিয়েছেন, এই টাকা তাঁর খুব প্রয়োজন ছিল। সীমিত আয়ে সংসার চালানো অন্নপূর্ণার কাছে এই অর্থ তাই যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।

চুঁচুড়া বড় বাজারের ভাড়া ঘরেই তাঁর দিন কাটে। ঘরের অবস্থা ভালো নয়। বর্ষার সময় বৃষ্টির জল ঢোকা আটকাতে ত্রিপল ব্যবহার করতে হয়। পরিচারিকার কাজ থেকে পাওয়া আয় দিয়ে সংসারের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ঘরভাড়ার খরচও বহন করতে হয় তাঁকে।
এই পরিস্থিতিতে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা তাঁর হাতে আসায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। সরকারি সহায়তা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছনোয় তিনি খুশি। তাঁর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, ‘খুব দরকার ছিল।’
অন্নপূর্ণার নামের সঙ্গে যোজনার নামের মিল থাকায় ঘটনাটি স্থানীয় ভাবে আলাদা করে নজর কেড়েছে। তবে তার থেকেও বড় বিষয়, সীমিত আয়ের এক মহিলার কাছে সরকারি আর্থিক সহায়তা কী ভাবে প্রয়োজনের সময়ে কাজে লাগতে পারে, তা এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে।

অন্নপূর্ণার টাকা পাওয়ার ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বড় বাজারের স্থানীয় বিজেপি নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, আর্থিক ভাবে প্রয়োজন রয়েছে এমন মানুষের কাছে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছনোই এই ধরনের উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
অন্নপূর্ণার মতো মানুষের কাছে এই অর্থ সংসারের প্রয়োজন মেটাতে কতটা কাজে লাগে, তাঁর প্রতিক্রিয়াতেই তার ইঙ্গিত মিলেছে। ভাড়া ঘর, সীমিত আয় এবং বর্ষার সমস্যার মধ্যে সরকারি সহায়তা তাঁর কাছে আপাতত কিছুটা স্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে।
