পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে রেকর্ড গড়ার ধারা অব্যাহত। দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণে মধ্যরাত পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৯২.৪৭ শতাংশ। ফলে প্রথম ও দ্বিতীয় দফা মিলিয়ে রাজ্যে গড় ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৯২.৮৫ শতাংশ, যা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।
নির্বাচন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পরিসংখ্যান এখনও চূড়ান্ত নয়। ভোটের হিসেব পুরোপুরি মেলানোর পর দিনের শেষে আরও কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। তবু প্রাথমিক তথ্যই স্পষ্ট করে দিচ্ছে, এবারের ভোটে বাংলার মানুষ ব্যাপক হারে অংশ নিয়েছেন।
দ্বিতীয় দফার এই হার প্রথম দফার তুলনায় সামান্য কম। প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণের দিন মধ্যরাত পর্যন্ত ভোট পড়েছিল ৯২.৮৮ শতাংশ। তবু দুই দফা মিলিয়ে সামগ্রিক হারই এখন দেশের নতুন রেকর্ড।
এর আগে সর্বোচ্চ ভোটদানের নজির ছিল ত্রিপুরায়। ২০১৩ সালে সেখানে ৯১.৮২ শতাংশ ভোট পড়েছিল। দীর্ঘদিন সেই রেকর্ড অটুট থাকলেও এবার তা পেরিয়ে গেছে পশ্চিমবঙ্গ।
রাজ্যে এর আগে সর্বোচ্চ ভোটদানের নজির গড়ে উঠেছিল ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে। সেই বছর ছয় দফার নির্বাচনে গড় ভোটদানের হার ছিল ৮৪.৩৩ শতাংশ। সেই রেকর্ডও এবার ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বাংলা।
নির্বাচন কমিশনের মুখ্য কর্তা জ্ঞানেশ কুমার ইতিমধ্যেই বাংলার ভোটারদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, স্বাধীনতার পর থেকে এই প্রথম দুই দফাতেই এত বেশি ভোট পড়েছে।
নির্বাচন দপ্তরের এক কর্তার মতে, এবারের উচ্চ ভোটদানের একটি বড় কারণ হল ভোটার তালিকার সংশোধন। অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত ও পুনরাবৃত্ত নাম বাদ দেওয়ার ফলে তালিকা আরও নির্ভুল হয়েছে। ফলে প্রকৃত ভোটারদের অংশগ্রহণের হার বেড়েছে।
এই বিপুল ভোটদানের ফলে রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে উত্তেজনা। এখন সবার নজর চূড়ান্ত পরিসংখ্যান এবং ভোটগণনার দিনের দিকে।
