27 C
Kolkata
October 4, 2026
রাজ্য

এক লক্ষ টাকার ঘুষের ফাঁদে কনস্টেবল, নাজিরগঞ্জ ফাঁড়িতে দুর্নীতি দমন শাখার অভিযান

হাওড়া, ১৯ আগস্ট — এক প্রোমোটারের কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের নাজিরগঞ্জ ফাঁড়ির কনস্টেবল শুভময় মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করল রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখা (ACB)। মঙ্গলবার রাতে সাঁকরাইল থানা এলাকার ওই ফাঁড়িতে ফাঁদ পেতে তাঁকে হাতেনাতে ধরা হয়।

অভিযোগ, এক প্রোমোটারের কাছ থেকে কাজ মিটিয়ে দেওয়ার জন্য এক লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন শুভময়। বিষয়টি রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখার (Anti-Corruption Branch) নজরে আসার পর অভিযোগকারীকে সঙ্গে নিয়েই পরিকল্পনা করা হয়। রাসায়নিক মেশানো নোট নিয়ে ফাঁড়িতে পৌঁছন ওই প্রোমোটার। টাকা তুলে দেওয়ার পর তিনি বাইরে বেরিয়ে আসতেই অভিযানে নামেন আধিকারিকেরা।

তদন্তকারীদের উপস্থিতি টের পেয়েই শুভময় টাকার বান্ডিলগুলি বাইরে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। একটি বান্ডিল বাইরে ফেলে দিতে পারলেও দ্বিতীয়টি ফেলতে পারেননি। তাঁর কাছ থেকে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার হয়। পরে এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে বাইরে ছুড়ে ফেলা বাকি ৫০ হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে এক লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

শুধু টাকা উদ্ধার নয়, রাসায়নিক পরীক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ মেলে বলে তদন্তকারীদের দাবি। ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ প্রথমে অস্বীকার করেছিলেন শুভময়। পরে তাঁর হাত জলে ডোবানো হলে জলের রং গোলাপি হয়ে যায়। রাসায়নিক মেশানো নোট ধরার ফলে হাতে সেই রাসায়নিকের প্রভাব ছিল বলেই এই পরিবর্তন হয়েছে বলে দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকদের দাবি। এরপর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শুভময়ের গ্রেপ্তারের আগে সোমবারই হাওড়ার ব্যাঁটরা থানার সাব-ইনস্পেক্টর সুব্রত সরকারকে (Subrata Sarkar) ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। একটি বধূ নির্যাতনের মামলায় সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে ঘুষ চাওয়ার কথা সামনে আসে। ফাঁদ পেতে টাকা নেওয়ার সময় তাঁকেও হাতেনাতে ধরে দুর্নীতি দমন শাখা।

পর পর দুই দিনে হাওড়ায় দুই পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ায় বিষয়টি প্রশাসনিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে। নতুন সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের মধ্যেই এই অভিযানগুলি হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সরকারি কাজে ঘুষ নেওয়ার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে শুধু সাময়িক বরখাস্ত নয়, জেলেও পাঠানো হবে।

এই ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সাধারণ মানুষের কাছেও একটি বার্তা যাচ্ছে—পুলিশ বা সরকারি দপ্তরে কাজ করাতে গিয়ে ঘুষ দাবি করা হলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তও হচ্ছে। তবে কোনও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে গণ্য করা যাবে না।

Related posts

Leave a Comment