সংবাদ কলকাতা— নিট-ইউজি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ওএমআর শিটে গুরুতর গরমিলের অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন হুগলির ডানকুনির এক পরীক্ষার্থী। মামলাকারী শ্রেয়া মহান্তির অভিযোগ, প্রকাশিত ‘আনসার কি’-র সঙ্গে তাঁর ওএমআর শিটের মূল্যায়নের কোনও মিল নেই। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ওএমআর শিট পুনর্মূল্যায়নের আর্জি জানানো হয়েছে। মামলার প্রাথমিক শুনানির পর বিচারপতি অমৃতা সিনহা ন্যাশানাল টেস্টিং এজেন্সির কাছে জবাব তলব করেছেন। আগামী মঙ্গলবার মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
মামলাকারীর দাবি, নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রকাশিত ‘আনসার কি’ অনুযায়ী তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৬৫৯ থেকে ৬৬১-এর মধ্যে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তিনি পেয়েছেন মাত্র ২৮৯ নম্বর। অর্থাৎ প্রত্যাশিত নম্বরের সঙ্গে প্রায় ৩৭০ নম্বরের ব্যবধান রয়েছে। এত বড় পার্থক্য কীভাবে তৈরি হল, সেই প্রশ্ন তুলেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
মামলাকারীর আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় আদালতে দাবি করেন, ওএমআর শিট সম্পূর্ণ কম্পিউটারভিত্তিক পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হয়। সেই কারণে প্রকাশিত ‘আনসার কি’ এবং চূড়ান্ত ফলাফলের মধ্যে এত বড় ব্যবধান থাকা স্বাভাবিক নয়। তাঁর অভিযোগ, মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় গুরুতর ত্রুটি বা অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে। তাই ওএমআর শিট পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
শুনানির সময় বিচারপতি অমৃতা সিনহা জানান, বর্তমানে সারা দেশে ডাক্তারি পাঠ্যক্রমে ভর্তির কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া চলছে। ফলে বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি প্রয়োজন। আদালত এনটিএকে নির্দেশ দিয়েছে, পরবর্তী শুনানিতে ওএমআর মূল্যায়ন প্রক্রিয়া এবং নম্বরের গরমিল নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরে নিট-ইউজি পরীক্ষা এবং ফল প্রকাশকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। ওএমআর মূল্যায়ন ও ফলাফল সংক্রান্ত একাধিক মামলাও বিভিন্ন হাই কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।
