চেন্নাই— তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সরকার ফেলার চক্রান্তের অভিযোগকে ঘিরে। মুখ্যমন্ত্রী টি জোশেফ বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের এক বিধায়ককে কোটি টাকার প্রলোভন দেখিয়ে বিধানসভায় অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে তামিলনাড়ু পুলিশ। অভিযোগের তির গিয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিন ঘনিষ্ঠ এক নেতার দিকে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে ডিএমকের তরফে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, টিভিকের বিধায়ক এন এলাইয়ারাজার অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগে তিনি জানান, একটি পরামর্শদাতা সংস্থার এক আধিকারিক তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে তামিলনাড়ু বিধানসভার স্পিকার তথা টিভিকের বিধায়ক প্রভাকরের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অনাস্থা প্রস্তাবকে সমর্থন করার জন্য ৩৫ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেন।
এলাইয়ারাজার আরও অভিযোগ, তিনি সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাঁকে ভয় দেখানো হয় এবং বিষয়টি প্রকাশ্যে না আনার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে পুলিশ। প্রথমে ওই পরামর্শদাতা সংস্থার এক আধিকারিককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তদন্তের সূত্র ধরে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তদন্তে ডিএমকে নেতা সেন্থিল বালাজির সম্ভাব্য যোগসূত্র মিলেছে বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। তবে তদন্ত এখনও চলছে এবং পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
উল্লেখ্য, গত ১০ মে বিধানসভা নির্বাচনের পর কংগ্রেস এবং কয়েকটি আঞ্চলিক দলের সমর্থনে টি জোশেফ বিজয় তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এরপর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসে। কংগ্রেসের সঙ্গে বিজয়ের জোট গঠনের পর ডিএমকে ‘ইন্ডিয়া’ জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায়। সেই প্রেক্ষাপটে রাজ্যের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এই পরিস্থিতিতে সরকার ফেলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ সামনে আসায় তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
