31.5 C
Kolkata
June 18, 2026
রাজ্য

২০ হাজার কোটি টাকার শিল্প সুবিধা কি ফিরবে? নতুন সরকারের প্রথম বাজেট ঘিরে জোর জল্পনা

সংবাদ কলকাতা: আগামী সপ্তাহেই রাজ্যের নতুন সরকার তাদের প্রথম বাজেট পেশ করতে চলেছে। সেই বাজেটকে ঘিরে শিল্পমহল, বণিকসভা এবং প্রশাসনিক স্তরে শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা। সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা শিল্প ভর্তুকি এবং আর্থিক সুবিধা পুনরুজ্জীবনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে এই বাজেটেই।

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকার শিল্পোন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, পূর্বতন সরকারের আমলে বাতিল হওয়া প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার শিল্প সংক্রান্ত আর্থিক সুবিধা ফের চালু করার বিষয়ে সক্রিয়ভাবে ভাবনাচিন্তা চলছে।

কী ছিল সেই শিল্প সুবিধা?
রাজ্যে বিনিয়োগ টানতে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৯৩ সালে শিল্প নীতির আওতায় একাধিক আর্থিক প্রণোদনা চালু করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সরকার সেই নীতিতে সংশোধন আনলেও মূল কাঠামো বহাল ছিল।

এই সুবিধাগুলির মধ্যে ছিল মূলধনী বিনিয়োগে ভর্তুকি, সুদের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়, নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে আর্থিক উৎসাহ, বিদ্যুতের ডিউটিতে ছাড় এবং ভ্যাট সংক্রান্ত সুবিধা। শিল্পমহলের মতে, এই ধরনের প্রণোদনা নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

কেন বিতর্ক তৈরি হয়েছিল?
২০২৫ সালের মার্চ মাসে তৎকালীন সরকার একটি আইন এনে বহু পুরনো শিল্প সুবিধা প্রত্যাহার করে নেয়। সরকারের যুক্তি ছিল, সামাজিক প্রকল্প এবং প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে রাজ্যের আর্থিক চাপ বেড়েছে। সেই পরিস্থিতিতে শিল্পের জন্য অতিরিক্ত ভর্তুকি বহন করা কঠিন হয়ে উঠেছিল।

তবে শিল্পমহলের একাংশ এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে। তাঁদের দাবি ছিল, সরকারি নীতির উপর আস্থা রেখেই বহু সংস্থা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করেছিল। মাঝপথে সেই সুবিধা প্রত্যাহার করায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

শিল্পের আস্থা ফেরানোর চ্যালেঞ্জ

নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির কথা বলছে। বিভিন্ন বণিকসভার অনুষ্ঠানে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছে।

প্রশাসনের একাংশের মতে, দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে শিল্প এবং সামাজিক উন্নয়ন— দুই ক্ষেত্রের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা জরুরি। শিল্পের জন্য প্রতিশ্রুত সুবিধা বজায় রাখা বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গঠনের অন্যতম শর্ত বলেও মনে করা হচ্ছে।

বাজেটে কী ঘোষণা হতে পারে?
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, শিল্প সংক্রান্ত আর্থিক সুবিধা পুনরায় চালু করার বিষয়ে নীতিগত স্তরে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। তবে সেই ক্ষেত্রে নতুন আইন বা সংশোধিত বিধি আনার প্রয়োজন হতে পারে। ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য আইনি কাঠামো নিয়ে খসড়া তৈরির কাজ শুরু হয়েছে বলেও সূত্রের খবর।

এখন নজর আগামী সপ্তাহের বাজেটের দিকে। শিল্পের জন্য পুরনো প্রণোদনা ফিরিয়ে আনা হবে, নাকি কেন্দ্রের বিশেষ সহায়তার মাধ্যমে বিকল্প পথ খোঁজা হবে— সেই উত্তর মিলতে পারে বাজেট ভাষণেই।

Related posts

Leave a Comment