31 C
Kolkata
June 13, 2026
রাজ্য

উত্তরবঙ্গের চা-বাগান শ্রমিকদের জন্য আবাস যোজনার নতুন ভাবনা, জমির অধিকারই বড় বাধা

উত্তরবঙ্গের চা-বাগান শ্রমিকদের প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (পিএমএওয়াই)-র আওতায় আনার উপায় খুঁজছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। শুক্রবার শিলিগুড়িতে প্রশাসনিক বৈঠকের পর পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, জমির মালিকানা না থাকায় অধিকাংশ চা-শ্রমিক বর্তমানে এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না।

মন্ত্রী বলেন, পিএমএওয়াই-এর অন্যতম শর্ত হল আবেদনকারীর নামে জমি থাকতে হবে। কিন্তু উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ চা-বাগান শ্রমিক চা-বাগানের জমিতেই বসবাস করেন এবং তাঁদের ব্যক্তিগত জমির পাট্টা নেই। ফলে বর্তমান নিয়মে তাঁরা আবাস যোজনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এই সমস্যার সমাধানে অসম ও ত্রিপুরার মডেল খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান দিলীপ। ওই দুই রাজ্যে কীভাবে চা-শ্রমিকদের আবাসন প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে, তা পর্যালোচনা করে উত্তরবঙ্গে একই ধরনের ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে।

দীর্ঘদিন ধরেই দার্জিলিং, তরাই ও ডুয়ার্সের চা-বাগান শ্রমিকরা তাঁদের বসবাসের জমির উপর আইনগত অধিকার বা পাট্টার দাবি জানিয়ে আসছেন। বহু পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একই জমিতে বসবাস করলেও জমির মালিকানা পাননি।

এর আগে তৃণমূল সরকারের আমলে ‘চা সুন্দরী’ প্রকল্পের মাধ্যমে শ্রমিকদের জন্য আবাসন নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে অনেক শ্রমিক নতুন বাড়িতে যেতে অনীহা দেখিয়ে নিজেদের বসবাসের জমির মালিকানা দাবি করেছিলেন। পাট্টা বিতরণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় অসন্তোষ দেখা দেয়।

দার্জিলিং পাহাড়ে পাট্টা দেওয়ার লক্ষ্যে সমীক্ষা শুরু হলে শ্রমিকদের একাংশ প্রতিবাদে সামিল হন। পরে জিটিএ প্রধান অনীত থাপার অনুরোধে সেই সমীক্ষার কাজ স্থগিত রাখা হয়।

এখন নজর রয়েছে বিজেপি সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। আবাস যোজনার সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি চা-শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের জমির অধিকার সংক্রান্ত দাবির সমাধান কীভাবে করা হয়, তা নিয়েই জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

Related posts

Leave a Comment