প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর টানা ৪,৩৯৯ দিন ক্ষমতায় থাকার মাইলফলককে কেন্দ্র করে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র ও লেখক গৌরব ভাটিয়ার এক নিবন্ধে উঠে এসেছে গত ১২ বছরে ভারতের পরিবর্তনের চিত্র এবং আগামী দিনের সম্ভাব্য সংস্কারের রূপরেখা।
নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, ২০১৪ সালে মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার সময় দেশ নীতিগত অচলাবস্থা, দুর্নীতির অভিযোগ এবং প্রশাসনিক জটিলতায় জর্জরিত ছিল। গত এক দশকে ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বৃহৎ অর্থনীতিগুলির মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ডিজিটাল অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
লেখকের মতে, মোদী সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের মধ্যে রয়েছে অনুচ্ছেদ ৩৭০ বিলোপ, পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) চালু, রাম মন্দির নির্মাণ, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ), ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সংস্কার এবং নারী সংরক্ষণ বিল পাস।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, আগামী দিনে ভারতের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোয় আরও বড় পরিবর্তন আনতে পারে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর মধ্যে রয়েছে ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’, জনগণনার ভিত্তিতে সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন এবং নারী সংরক্ষণ আইনের পূর্ণ বাস্তবায়ন।
‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ চালু হলে লোকসভা ও বিধানসভা ভোট একসঙ্গে হওয়ায় প্রশাসনিক ব্যয় কমবে এবং সরকার উন্নয়নমূলক কাজে বেশি মনোযোগ দিতে পারবে বলে মত প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনসংখ্যার পরিবর্তনের ভিত্তিতে প্রতিনিধিত্ব আরও ভারসাম্যপূর্ণ করা সম্ভব হবে বলেও দাবি করা হয়েছে।
নারী সংরক্ষণ আইন কার্যকর হলে দেশের আইনসভাগুলিতে মহিলাদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন আরও শক্তিশালী হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই বিষয়গুলি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ভিন্ন মতও রয়েছে। সমর্থকদের মতে, এই সংস্কারগুলি প্রশাসনিক দক্ষতা ও গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব বাড়াবে। অন্যদিকে সমালোচকদের আশঙ্কা, কিছু ক্ষেত্রে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক, রাজনৈতিক ভারসাম্য এবং প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে নতুন বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
নিবন্ধের মূল বক্তব্য, গত ১২ বছরে ভারতের যে পরিবর্তন হয়েছে, তার পরবর্তী ধাপ হতে পারে বৃহত্তর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। আর সেই পথেই ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘উন্নত ভারত’ গঠনের লক্ষ্য পূরণ সম্ভব বলে মনে করছেন লেখক।
