রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে নতুন বিজেপি সরকার। ইতিমধ্যেই প্রতিটি জেলায় তৈরি হয়েছে হোল্ডিং সেন্টার। সেখানে ধরা পড়া অনুপ্রবেশকারীদের রাখা হচ্ছে। এরপর তাঁদের বিএসএফের হাতে তুলে দিয়ে পুশব্যাক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই বহু বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়তে শুরু করেছেন। হাকিমপুর সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশে ফেরার জন্য ভিড় জমেছে বলে জানা গিয়েছে। দেশ ছাড়ার আগে তাঁদের অনেকেই প্রকাশ্যে জানিয়েছেন কীভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করতেন।
কেউ জানিয়েছেন নদীপথে সীমান্ত পার করে এ দেশে ঢুকতেন। আবার কেউ দাবি করেছেন, দালালদের সাহায্যে রাতের অন্ধকারে সীমান্ত পেরোতেন। এক অনুপ্রবেশকারীর কথায়, বিএসএফের পেট্রোলিংয়ের মাঝে মাত্র ১০ মিনিটের ফাঁক পাওয়া যেত। সেই সময়েই দ্রুত সীমান্ত পার করিয়ে দিত দালালচক্র।
আরও বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে ভুয়ো নথি তৈরিকে ঘিরে। কয়েক জন বাংলাদেশির দাবি, একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক কাজ করত, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের কিছু কর্মীও যুক্ত ছিল। তাঁদের সাহায্যে এ দেশে এসে ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরি করা হত। এর বদলে মোটা টাকা নেওয়া হত বলেও অভিযোগ। এমনকি, সেই ভুয়ো নথি ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ভোটও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন কয়েক জন অনুপ্রবেশকারী।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, অনুপ্রবেশকারীদের কোনও আশ্রয় দেওয়া হবে না। তাঁদের আদালতে তোলার পরিবর্তে সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে এবং পুশব্যাক করা হবে।
এদিকে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “যেহেতু অনুপ্রবেশকারীরা নিজেরাই ফিরে যাচ্ছে, তাই তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ করা হবে না।”
